নতুন পে স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের ধৈর্যের আহ্বান অর্থ উপদেষ্টার
ছবি: সংগৃহীত
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল আলোচিত নতুন পে স্কেল ঘোষণা ও বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি জানিয়েছেন, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং কমিটির প্রতিবেদন হাতে পেলেই দ্রুত বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থ উপদেষ্টা এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাঠামো পুনর্গঠন একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয়। তাই বিষয়টি সুনির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে আনতেই কমিটির মাধ্যমে কাজ এগোচ্ছে। কমিটির সুপারিশ পাওয়ার পর সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে যাবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।
পরিদর্শনকালে অর্থ উপদেষ্টা গণভোট প্রসঙ্গেও কথা বলেন। তিনি বলেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটবে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে গণভোট সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার দায়িত্ব গণমাধ্যমেরও রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানান, তিনি নিজেও বিভিন্ন জেলায় গিয়ে গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরছেন।
এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ, অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন। এছাড়াও বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ.ন.ম. বজলুর রশিদ, নাটোরের জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহাব ও গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: বেতন কমিশনের সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করলেন মাকছুদুর রহমান
এরই মধ্যে নবম জাতীয় পে স্কেল নিয়ে পে কমিশনের অভ্যন্তরীণ অগ্রগতি ও জটিলতাও সামনে এসেছে। দীর্ঘ আলোচনা শেষে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত কমিশনের পূর্ণ সভায় গ্রেড সংখ্যা পরিবর্তনের প্রস্তাব উঠলেও শেষ পর্যন্ত আগের মতোই ২০টি গ্রেড বহাল রাখার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পে কমিশন সূত্র জানায়, প্রশাসনিক জটিলতা এড়াতে গ্রেড সংখ্যা পুনর্গঠনের পথে না গিয়ে বর্তমান কাঠামোর মধ্যেই বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হবে।
তবে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের হার নির্ধারণে একমত হতে না পারায় পুরো বেতন কাঠামো এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কমিশনের এক সদস্য গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এই দুটি অঙ্ক নির্ধারণ না হওয়ায় বেতন কাঠামো, পেনশন ও চিকিৎসা ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধার বিষয়গুলো আটকে আছে। সর্বনিম্ন বেতন কত হবে, সে বিষয়ে কমিশনের সদস্যদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। আগামী ২১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য পরবর্তী সভায় এ বিষয়ে পুনরায় আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। এর আগে বেতন বৈষম্য কমাতে বেতন অনুপাত ১:৮ রাখার প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়েছিল।
পে স্কেল নিয়ে চলমান এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কমিশনের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাও প্রকাশ্যে এসেছে। বৃহস্পতিবারই খণ্ডকালীন সদস্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. মাকছুদুর রহমান সরকার পদত্যাগ করেছেন।
অন্যদিকে, আর্থিক সংকট ও আসন্ন ক্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অন্তর্বর্তী সরকার আপাতত নতুন পে স্কেল ঘোষণা থেকে সরে এসেছে। তবে এ উদ্দেশ্যে গঠিত পে কমিশনের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়নি। বরং কমিশনকে কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে একটি পূর্ণাঙ্গ বেতন কাঠামোর ফ্রেমওয়ার্ক প্রস্তুত করা যায়। কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে, যা নির্বাচনের পর নতুন নির্বাচিত সরকারের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
পে স্কেল ঘোষণা বিলম্বিত হলেও বিদ্যমান বিধি অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীরা মহার্ঘ ভাতা পেতে থাকবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








