News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৫:৫২, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আপডেট: ১৫:৫৩, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়ন ও স্বাধীনতার প্রতিশ্রুতি তথ্যমন্ত্রীর

গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়ন ও স্বাধীনতার প্রতিশ্রুতি তথ্যমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত

জনগণের কাছে তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে গণমাধ্যমের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা ও জবাবদিহিতার পরিধি নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। 

তিনি বলেছেন, এ লক্ষ্যে নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনা করে ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

একইসঙ্গে বর্তমান বিশ্বের আধুনিক প্রযুক্তি-নির্ভর ‘ইকোসিস্টেম’-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের পুরো গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনাকে একটি আধুনিক কাঠামোর মধ্যে আনার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে বরিশাল সার্কিট হাউসে জেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, তথ্য মন্ত্রণালয় যে সময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তখন তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর গণমাধ্যমের অস্তিত্ব ছিল না। কিন্তু বর্তমান বিশ্ব প্রযুক্তিনির্ভর ইকোসিস্টেমে পরিচালিত হলেও সেই পরিবর্তনের সঙ্গে এখনও পুরোপুরি খাপ খাওয়ানো সম্ভব হয়নি। নতুন ধরনের তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগভিত্তিক গণমাধ্যমের দ্রুত প্রসার ঘটলেও এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নীতিমালা ও ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে সময় লেগেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, সামগ্রিকভাবে গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক কাঠামোর মধ্যে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। অনলাইন, ইলেকট্রনিক বা প্রিন্ট এভাবে আলাদা করে নয়; বরং সমন্বিত ও প্রযুক্তিসম্মত ব্যবস্থাপনার আওতায় পুরো খাতকে নিয়ে আসতে চায় সরকার।

আরও পড়ুন: দেশের প্রতিটি ঘরে ইন্টারনেট সুবিধা পৌঁছে দেব: তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী

মন্ত্রী জানান, তিনি সদ্য দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। মন্ত্রণালয় ও সরকারের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রথমে জবাবদিহিতার পরিধি নির্ধারণ করা হবে। এরপর সেই কাঠামোর মধ্যেই গণমাধ্যমের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে জনগণের কাছে অবাধ তথ্য সরবরাহ নিশ্চিত করাই হবে মূল লক্ষ্য।

মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশনকে মন্ত্রণালয়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ যাতে মিথ্যা বা ভিত্তিহীন তথ্যের শিকার না হয়, সে জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বরিশাল আদালতে বিচারক ও আইনজীবীদের মধ্যে যে মনোমালিন্য ও বিভেদ সৃষ্টি হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি এখনও পুরোপুরি অবহিত নন। জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজন হলে আইনমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এর আগে সকালে বরিশাল ও পিরোজপুর জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর অনুদানের চেক বিতরণ করেন মন্ত্রী। বরিশাল জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ডের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে ৬১ জন ক্ষতিগ্রস্তকে মোট ২ কোটি ১৭ লাখ টাকার চেক প্রদান করা হয়।

বরিশাল জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমনের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিআরটিএ’র চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ এবং পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলামসহ বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তারা। পরে সার্কিট হাউসের সভাকক্ষে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তথ্যমন্ত্রী।

সভা শেষে তিনি জানান, নতুন সরকারের ঘোষিত প্রতিশ্রুতি ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড প্রকল্প চালু এসব সিদ্ধান্ত যাতে বরিশালে দ্রুত ও সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, সে বিষয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়