News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৬:২৭, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আপডেট: ১৬:৫৮, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য চুক্তি ৯ ফেব্রুয়ারি 

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য চুক্তি ৯ ফেব্রুয়ারি 

ফাইল ছবি

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি। ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত ‘পাল্টা শুল্ক’ হ্রাস এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ওই দিন দুই দেশের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে।

রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে চুক্তির খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে এবং ৯ ফেব্রুয়ারি তা স্বাক্ষরের অনুমোদন চেয়ে সামারি পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন এলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।

সম্ভাব্য চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ব্যবহার করে উৎপাদিত তৈরি পোশাকে শুল্কমুক্ত সুবিধা, বোয়িং বিমান ক্রয় এবং জ্বালানি খাতে আমদানির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা রয়েছে।

প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ এবং পরে ৩৫ শতাংশ ‘পাল্টা শুল্ক’ আরোপের ঘোষণা দেয়। তবে আলোচনার সুযোগ রেখে গত ৩১ জুলাই ওয়াশিংটনে তৃতীয় দফা বৈঠক শেষে এই শুল্কহার কমিয়ে ২০ শতাংশে নামানো হয়। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর প্রতিশ্রুতি দিতে হয় বাংলাদেশকে।

শুল্কহার আরও কমতে পারে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য সচিব বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের রেসিপ্রোকাল শুল্কহার ২০ শতাংশ। অন্যান্য দেশেও একই বা তার চেয়ে বেশি রয়েছে। তবে কিছুটা কমতে পারে— এমন সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। শুল্কহার নির্ধারণে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় নেওয়া হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সুবিধা পেতে বাংলাদেশকেও কিছু ছাড় দিতে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলা দিয়ে তৈরি পোশাকে শুল্কমুক্ত সুবিধা আদায়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছিল, যা এবার চূড়ান্ত চুক্তিতে রূপ নিতে যাচ্ছে।

সম্প্রতি ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে এফটিএ স্বাক্ষর নিয়ে সরকারের কোনো উদ্বেগ আছে কি না— জানতে চাইলে বাণিজ্য সচিব বলেন, উদ্বেগের কিছু নেই। তৈরি পোশাক খাতে বাংলাদেশ গত ৪৫ বছরে বড় সক্ষমতা অর্জন করেছে এবং বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকারক দেশ। এই সক্ষমতা রাতারাতি অন্য কোনো দেশ অর্জন করতে পারবে না।

তিনি আরও বলেন, ভারত বেসিক টেক্সটাইলে শক্তিশালী হলেও বাংলাদেশ ও ভারতের অবস্থান পরিপূরক। ভারত আমাদের প্রতিযোগী নয়, বরং কমপ্লিমেন্টারি।

এলডিসি উত্তরণের পর শুল্ক সুবিধা হারানোর প্রসঙ্গে তিনি জানান, সরকার ইতোমধ্যে একাধিক দেশের সঙ্গে এফটিএ প্রক্রিয়ায় রয়েছে। জাপানের সঙ্গে এফটিএর আলোচনা শেষ হয়েছে এবং আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অন্যান্য বাজারেও প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

রমজানের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে বাণিজ্য সচিব বলেন, নিত্যপণ্যের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি ভালো থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং কেনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিমানের সক্ষমতা বাড়াতে বোয়িংসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। কতটি বিমান, মূল্য ও কনফিগারেশন- এসব বিষয়ে আলোচনা এখনো চলমান। তবে এই চুক্তির আওতায় যুদ্ধবিমান কেনার কোনো বিষয় নেই।

আরও পড়ুন: ইসরায়েল সফরে নেচে-গেয়ে ট্রাম্পকে খুশি করার চেষ্টা মোদির

গত ছয় মাসে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববাণিজ্যেই ৩.৭ শতাংশ ঘাটতি দেখা গেছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি প্রায় ১.৬ শতাংশ, যা বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় ভালো।

যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ব্যবহার করে উৎপাদিত পোশাকে শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে কিউমুলেশন বেনিফিট পাওয়ার সুযোগ থাকে এবং এ ধরনের সুবিধার জন্যই এসব চুক্তি করা হয়।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৩৪৬ মিলিয়ন ডলারের তুলা আমদানি করেছে বাংলাদেশ, যা আগের অর্থবছরে ছিল ২৭৮ মিলিয়ন ডলার। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র এখনো বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় একক রপ্তানি বাজার।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে আগামী দেড় বছরে ১,৫০০ কোটি ডলারের অতিরিক্ত আমদানির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ। এর আওতায় আগামী কয়েক বছরে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনা, প্রতিবছর সাত লাখ টন গম আমদানি এবং জ্বালানি, এলএনজি, ভোজ্যতেল ও তুলা আমদানি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়