News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৭:৩১, ২১ জানুয়ারি ২০২৬

‘এবারের নির্বাচন ভবিষ্যতের জন্য আদর্শ তৈরি করবে’

‘এবারের নির্বাচন ভবিষ্যতের জন্য আদর্শ তৈরি করবে’

ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নে আয়োজিত গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে এই গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনকে একটি ‘ঐতিহাসিক অর্জন’ এবং ভবিষ্যতের জন্য ‘নির্বাচনী আদর্শ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

এতে স্বরাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, ডাক ও তথ্যপ্রযুক্তি, বিদ্যুৎ–জ্বালানি ও খনিজ সম্পদসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, আনসার-ভিডিপি, কোস্ট গার্ড ও র‌্যাবের প্রধানরা অংশ নেন।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই নির্বাচন দেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ, যা সঠিকভাবে সম্পন্ন হলে ভবিষ্যতের নির্বাচনের জন্য আদর্শ স্থাপন করবে। তিনি সকলকে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মেনে কাজ করার এবং নির্বাচনকে নিরাপদ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে আয়োজনের প্রতি সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। 

তিনি বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে ধাপে ধাপে পরীক্ষা শুরু হয়েছে এবং ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হবে চূড়ান্ত ধাপ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সব পক্ষ আইন-শৃঙ্খলা বজায় রেখে দায়িত্বশীল আচরণ করবেন এবং একটি শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

বৈঠকে নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ভোটকেন্দ্র পর্যবেক্ষণ ও মনিটরিংয়ের জন্য বডি ক্যামেরা এবং সিসি ক্যামেরা ব্যবহার নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি ড্রোন প্রযুক্তি প্রয়োগ এবং কেন্দ্রে ২৪ ঘণ্টা তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা থাকবে। নির্বাচনী প্রচারণা, পোস্টাল ব্যালট, দলীয় প্রতীকের ব্যালট এবং গণভোটের ব্যালট গণনার জন্য প্রয়োজনীয় সময় ও সতর্কতা গ্রহণের বিষয়েও বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভোটকেন্দ্রে যথাযথ উপস্থিতি নিশ্চিত করবে। প্রিজাইডিং অফিসার ও কেন্দ্রের নিরাপত্তার দায়িত্বে আনসার-ভিডিপি সদস্যরা থাকবে এবং প্রয়োজন হলে পুলিশ ও অন্যান্য সশস্ত্র বাহিনী ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবে। 

স্বরাষ্ট্র সচিব জানান, বডি ক্যামেরা ও মনিটরিং টিম দ্রুত মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম শুরু করবে।

বৈঠকে সাইবার ও তথ্য পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক নিরবিচ্ছিন্ন রাখার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি নিয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এবার নির্বাচনকে ঘিরে দেশের মধ্যে এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের নজর থাকবে, তাই সবার দায়িত্ব আরও বেশি গুরুত্ব বহন করছে।

এছাড়া বৈঠকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলের পরিস্থিতি, ইতিবাচক মনোভাব এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। 

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনে যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তারা প্রত্যেকেই ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছেন এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রেখে চলছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তারা কেউই এই মনোভাব থেকে সরে যাবেন না।

বৈঠকে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, এবারের নির্বাচনে নিবন্ধিত ৫৯টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫১টি দল অংশগ্রহণ করছে। 

আরও পড়ুন: এবার ভোট গণনায় কিছুটা দেরি হতে পারে: প্রেস সচিব

তিনি জানান, নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য ২৬টি দেশের প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রায় তিনশজনের পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে তাদের ৫৬ জন প্রতিনিধি বাংলাদেশে অবস্থান করছেন এবং দুজন প্রতিনিধি মনোনয়নপত্র সংক্রান্ত আপিল প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেছেন।

ইসি সচিব জানান, নির্বাচনী প্রচারণা ২১ জানুয়ারি মধ্যরাত থেকে শুরু হয়ে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত চলবে। 

তিনি বলেন, সাইবার স্পেসে তথ্য বিকৃতি এবারের নির্বাচনে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। দলীয় প্রতীকের ব্যালট, গণভোটের ব্যালট এবং পোস্টাল ব্যালট গণনার ক্ষেত্রে কিছুটা বাড়তি সময় প্রয়োজন হবে। এটিকে ঘিরে যেন কোনো অপতথ্য বা গুজব ছড়িয়ে না পড়ে, সেজন্য গণমাধ্যমগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।

বৈঠকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, নির্বাচনের দিন নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়ে তার মন্ত্রণালয় কাজ করছে। 
প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, নির্বাচনের দিন সব ভোটকেন্দ্রে নিরবিচ্ছিন্ন মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

সেনাবাহিনী প্রধান ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে গণঅভ্যুত্থানকালে দেশের বিভিন্ন থানা থেকে ৩ হাজার ৬১৯টি অস্ত্র লুট হয়েছে। লুট করা অস্ত্রের মধ্যে ২ হাজার ২২৫৯টি উদ্ধার করা হয়েছে, যা লুট অস্ত্রের ৬২.৪ শতাংশ। একই সময়ে বিভিন্ন থানা থেকে লুট করা গোলাবারুদের পরিমাণ চার লাখ ৫৬ হাজার ৪১৮ রাউন্ড। এর মধ্যে ২ লাখ ৩৭ হাজার ১০০ রাউন্ড উদ্ধার হয়েছে, যা ৫২ শতাংশ।

তিনি জানান, নির্বাচনের সময় জনমনে স্বস্তি নিশ্চিত করতে বাহিনীগুলো পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে নানা ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে, যা কার্যকর হলে একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব।

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ বলেন, এবারের নির্বাচনে প্রিজাইডিং অফিসারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সশস্ত্র আনসার সদস্য ভোটকেন্দ্রের ভেতরে অবস্থান করবেন। ফলে কেউ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর এজেন্টকে কেন্দ্র থেকে বের করে দিতে পারবে না এবং কেন্দ্রের ভেতর কোনো বেআইনি কাজ করতে দেওয়া হবে না।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা এবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হিসেবে বিবেচিত হবে, তাই প্রয়োজন হলে তারা ভোটকেন্দ্রের আঙিনায় প্রবেশ করতে পারবে। 

স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গণি বলেন, আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে বডি ক্যামেরা পৌঁছে যাবে। পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ড্রোন ব্যবহার করবে।

তিনি বলেন, ভোটের চার দিন আগে সব বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হবে এবং ভোটের পর তারা আরও সাত দিন মাঠে থাকবে। 

তিনি আরও জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে একাধিক টিম নির্বাচনসংক্রান্ত মাঠপর্যায়ের যাবতীয় তথ্য ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং ও রেকর্ড করবে। বডি ক্যামেরার মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট এলাকায় কানেক্ট হওয়া যাবে এবং সব ঘটনা রেকর্ড করা সম্ভব হবে।

এসময় স্বরাষ্ট্র সচিব বডি ক্যামেরা ব্যবহারের ওপর একটি ভিডিওচিত্র উপস্থাপন করেন। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বডি ক্যামেরার নানা সম্ভাবনার দিক আছে; এটি যথাযথভাবে কাজে লাগানো গেলে বিশাল সাফল্য পাওয়া সম্ভব। 

তিনি বলেন, এখন থেকে প্রতি সপ্তাহে এবং প্রয়োজন হলে আরও কম দিনের ব্যবধানে বৈঠকে বসা হবে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়