News Bangladesh

স্টাফ রিপোর্টার || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২১:১৯, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
আপডেট: ২১:২০, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরকারের সমর্থনের ব্যাখ্যা দিল প্রেস উইং

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরকারের সমর্থনের ব্যাখ্যা দিল প্রেস উইং

ফাইল ছবি

সন্নিকট গণভোটে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোটের বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের প্রকাশ্য সমর্থন নিরপেক্ষতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ এমন প্রশ্নের প্রেক্ষিতে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।

প্রেস উইং জানায়, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা, অন্তর্বর্তী সরকারের ম্যান্ডেট এবং আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক চর্চার আলোকে এ ধরনের সমালোচনার কোনো ভিত্তি নেই। বরং সংকটময় সময়ে নীরবতা নিরপেক্ষতার প্রতীক নয়, বরং দায়িত্বশীল নেতৃত্বের ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়।

ব্যাখ্যায় বলা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কেবল দৈনন্দিন রাষ্ট্র পরিচালনা বা নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য গঠিত হয়নি। দীর্ঘদিনের অপশাসনের ফলে সৃষ্ট শাসনতান্ত্রিক সংকট, জনঅনাস্থা ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার প্রেক্ষাপটে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়েই এই সরকার গঠিত হয়েছে। রাষ্ট্রকে স্থিতিশীল করা, গণতান্ত্রিক বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধার এবং নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে প্রয়োজনীয় সংস্কারের একটি গ্রহণযোগ্য কাঠামো তৈরি করাই এ সরকারের মূল দায়িত্ব।

প্রেস উইং জানায়, প্রধান উপদেষ্টা গত আঠারো মাসে রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, পেশাজীবী ও তরুণদের সঙ্গে ব্যাপক পরামর্শের মাধ্যমে যে সংস্কার প্রস্তাব প্রণয়ন করেছেন, বর্তমান সংস্কার প্যাকেজ তারই ফল। তাই সংস্কারের প্রশ্নে অবস্থান না নেওয়ার প্রত্যাশা অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশ্যকে ভুলভাবে বোঝার শামিল।

ব্যাখ্যায় আরও বলা হয়, যে সরকার সংস্কারের দায়িত্ব নিয়ে গঠিত, গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের মুহূর্তে সেই সংস্কার থেকে নিজেকে দূরে রাখবে—এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়। আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক চর্চায়ও সরকারপ্রধানদের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বা প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন নিয়ে প্রকাশ্যে মত প্রকাশকে অগণতান্ত্রিক বলা হয় না।

প্রেস উইং উল্লেখ করে, গণভোট কোনো টেকনোক্র্যাটিক প্রক্রিয়া নয়; এটি সরাসরি জনগণের মতামত জানার একটি গণতান্ত্রিক মাধ্যম। সরকারপ্রধানের অবস্থান ভোটারদের স্বাধীন সিদ্ধান্তে বাধা সৃষ্টি করে না, বরং তথ্যভিত্তিক ও অর্থবহ সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে।

গণভোটের বৈধতার ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়, ভোটারদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা, বিরোধী পক্ষের প্রচারের সুযোগ এবং পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই তিনটি শর্তই বজায় রয়েছে বলে দাবি করা হয়।

ব্যাখ্যায় আরও বলা হয়, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে গণভোটের ফলাফলের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো নির্বাচনী স্বার্থ জড়িত নয়। প্রধান উপদেষ্টা ও তাঁর উপদেষ্টারা ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করা বা ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সুবিধা অর্জনের উদ্দেশ্যে কাজ করছেন না। তাঁদের দায়িত্ব সময়সীমাবদ্ধ ও অন্তর্বর্তী।

আরও পড়ুন: ইসি ভবনের সামনে বিজিবি মোতায়েন

জেলা পর্যায়ে সরকারি প্রচারণা নিয়ে ওঠা উদ্বেগ প্রসঙ্গে প্রেস উইং জানায়, এসব কার্যক্রমের উদ্দেশ্য সংস্কারের বিষয়বস্তু ও গুরুত্ব জনগণের কাছে স্পষ্ট করা, বিশেষ করে বিভ্রান্তি ও ভুল তথ্য প্রতিরোধ করা। এ ধরনের সরকারি সম্পৃক্ততা বিরোধী মত দমন করে না; বরং সচেতন নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে।

প্রেস উইংয়ের মতে, বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি সমর্থনে নয়, বরং দ্বিধা ও নীরবতায়। সংস্কারের পক্ষে প্রধান উপদেষ্টার অবস্থান সংস্কারমূলক ম্যান্ডেট, প্রাতিষ্ঠানিক পুনর্গঠনের অঙ্গীকার এবং আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

ব্যাখ্যায় বলা হয়, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জনগণের হাতেই থাকবে এটাই গণতন্ত্রের মূল শক্তি। নেতৃত্ব সেই সিদ্ধান্ত কেড়ে নেয় না; বরং তা স্পষ্ট ও অর্থবহ করতে সহায়তা করে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়