News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৩:০২, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে মাঠে নামলো ইইউ’র ৫৬ পর্যবেক্ষক

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে মাঠে নামলো ইইউ’র ৫৬ পর্যবেক্ষক

ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনি পর্যবেক্ষণ মিশন তার মাঠ পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। 

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে রাজধানী ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল থেকে দেশের ৬৪টি জেলায় ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক দেশজুড়ে বিভিন্ন এলাকায় রওনা দিয়েছেন। 

এ কার্যক্রমের মাধ্যমে মিশনটি দেশের নির্বাচনী পরিবেশ, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ও ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবে।

মিশনের উপপ্রধান পর্যবেক্ষক ইন্তা লাসে শনিবার সকালে রাজধানীর ওই হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানান, দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকরা মিশনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের পর্যবেক্ষণ এবং অন্তর্দৃষ্টি নির্বাচনি প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক মূল্যায়নে মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচনি পর্যবেক্ষণ মিশন দীর্ঘমেয়াদি ও দেশব্যাপী পর্যবেক্ষণের জন্য সুসংহত ও সুপ্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি প্রয়োগ করে থাকে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ প্রদান করে। দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকরা আঞ্চলিক পর্যায়ে নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন এবং ঢাকাভিত্তিক মূল দলের বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ কার্যক্রমে সহায়তা করবেন।

তিনি আরও বলেন, পর্যবেক্ষকরা দুইজনের একটি করে দল গঠন করে কাজ করবেন। তারা তাদের পর্যবেক্ষণ এলাকায় ভোটার, নির্বাচন কর্মকর্তা, প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি নাগরিক পর্যবেক্ষক ও তরুণ কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এসব কার্যক্রম শুধু শহরে সীমাবদ্ধ থাকবে না, ছোট শহর ও গ্রামাঞ্চলেও পরিচালিত হবে। এ সময় তারা স্থানীয় প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সম্পর্কিত দিকগুলোও পর্যবেক্ষণ করবেন।

আরও পড়ুন: ‘বিএনপির আপত্তিতে দেশের ভেতরে পোস্টাল ব্যালটে পরিবর্তন’

মিশন সূত্রে জানা গেছে, পর্যবেক্ষকরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রসমূহের পাশাপাশি কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড থেকে আগত। মাঠ পর্যায়ে মোতায়েনের আগে তাদের বাংলাদেশের নির্বাচনি প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক পরিবেশ, আইনি কাঠামো এবং গণমাধ্যম ও সামাজিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে সম্যক ধারণা এবং বিস্তারিত দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া তাদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে বলে মিশন পক্ষ জানিয়েছে।

ইন্তা লাসে বলেন, বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের আমন্ত্রণে এই মিশনটি নিয়োজিত করা হয়েছে। মিশনের নেতৃত্বে রয়েছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ও প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স ইজাবস, যিনি গত ১১ জানুয়ারি ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে মিশনের কার্যক্রম শুরু করেন। নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে মিশনটিকে আরও জোরদার করতে যুক্ত হবেন ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রসহ কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের কূটনৈতিক মিশনের পর্যবেক্ষকরা। তারা নির্বাচনের দিনের কার্যক্রম যেমন—ভোটগ্রহণ, ভোট গণনা এবং ফল তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন। পাশাপাশি ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যদের একটি প্রতিনিধি দলও মিশনের কার্যক্ষমতা বাড়াবে। পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলো এবং কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড মিলিয়ে এই মিশনে মোট ২০০ জন পর্যবেক্ষক নিয়োজিত থাকবেন।

মিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচনি পর্যবেক্ষণ মিশন একটি আচরণবিধির অধীনে পরিচালিত হয়, যা কঠোর নিরপেক্ষতা এবং কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকার বাধ্যবাধকতা আরোপ করে। মিশনটি ২০০৫ সালে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে অনুমোদিত আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণের নীতিমালা অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করে।

উল্লেখ্য, মিশনটি আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নির্বাচনের প্রাথমিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে। পরবর্তীতে সম্পূর্ণ নির্বাচনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর প্রয়োজনীয় সুপারিশমালাসহ একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন কর্তৃপক্ষের কাছে পেশ করা হবে। উভয় নথিই সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং মিশনের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়