‘হ্যাঁ ভোটেই তরুণরা পাবে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ’
ছবি: সংগৃহীত
নতুন করে দেশ গড়তে হলে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই—এমন আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী এবং গণভোট সংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
তিনি বলেন, আগামী দিনে তরুণদের হাতে কেমন বাংলাদেশ তুলে দেওয়া হবে, তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হবে এই গণভোটের ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের মাধ্যমে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে রংপুর শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে আয়োজিত বিভাগীয় পর্যায়ের ইমাম সম্মেলনে এসব কথা বলেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত এ সম্মেলনে রংপুর বিভাগের আট জেলার ইমাম, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পুলিশ প্রশাসন, সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে তরুণ প্রজন্ম পাবে একটি নতুন, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ।
তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই জাতীয় সনদ কালো কালিতে লেখা হলেও প্রকৃতপক্ষে এটি লেখা হয়েছে জুলাই আন্দোলনে শহীদদের রক্ত দিয়ে। এই সনদ বাস্তবায়ন করতে হলে জনগণকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলতে হবে। তা না হলে শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি অবিচার করা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই গণভোট কোনো ব্যক্তি বা দলকে নির্বাচিত করার জন্য নয়। জনগণ যদি ‘হ্যাঁ’ বলে, তবে কোনো রাজনৈতিক দলেরই ক্ষমতা থাকবে না প্রয়োজনীয় সংস্কার আটকে রাখার। রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতেই জুলাই সনদ প্রণীত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আরও পড়ুন: মব জাস্টিস বন্ধে শুধু সনদ নয়, আইনশৃঙ্খলা দরকার: আলী রীয়াজ
দীর্ঘ ষোলো বছর ধরে জনগণের অর্থ লুটপাট ও দুর্নীতির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে বহু ক্ষেত্রে এই লুটপাট ও দুর্নীতির পথ বন্ধ হবে। জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হলে দুর্নীতি দমন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে এবং বিগত সরকারের মতো দীর্ঘ সময় ধরে লুটপাটের সুযোগ আর থাকবে না।
ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে যেন আর কখনো ফ্যাসিবাদ ফিরে না আসে এবং নতুন করে কোনো ফ্যাসিবাদ তৈরি না হয়, সে জন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। গণভোটই সেই সজাগ থাকার অন্যতম কার্যকর হাতিয়ার। গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর জয় হলে দেশে আর ফ্যাসিস্ট সরকার ফিরে আসবে না এবং ফ্যাসিজমের পুনরুত্থানের পথও বন্ধ হবে। ফলে মানুষের মৌলিক অধিকার আর হরণ হবে না এবং জনগণ তাদের অধিকার ফিরে পাবে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হলে কেউ দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী হতে পারবে না এবং সরকারের সব প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে একপেশে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ থাকবে না। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ভারসাম্য ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এই সনদের অন্যতম লক্ষ্য।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (সিনিয়র সচিব পদমর্যাদা) মনির হায়দার।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কামাল উদ্দিন, রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ মজিদ আলী, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সম্মেলনে মাওলানা বায়োজিদ হুসাইন, মাওলানা আজগর আলী ও মাওলানা নজরুল ইসলাম সিদ্দিকীসহ বিশিষ্ট আলেমরা বক্তব্য দেন। একই স্থানে বিভাগের বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, পুলিশ প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকর্মীরাও অংশ নেন।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








