মব জাস্টিস বন্ধে শুধু সনদ নয়, আইনশৃঙ্খলা দরকার: আলী রীয়াজ
ছবি: সংগৃহীত
শুধু জুলাই জাতীয় সনদ হলেই দেশে মব জাস্টিস বন্ধ হয়ে যাবে—এমনটি মনে করার কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
তিনি বলেন, মব জাস্টিস বন্ধ করতে হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বাস্তব উন্নয়ন ঘটাতে হবে এবং রাজনৈতিকভাবে এসব কর্মকাণ্ডে সমর্থন দেওয়া বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে জনগণের প্রত্যক্ষ মতামতের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামো নির্ধারণ করাই হচ্ছে গণভোটের মূল উদ্দেশ্য।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাজশাহীতে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচির বিভিন্ন সভা ও সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
দুপুর ৩টায় রাজশাহীর ডা. কাইছার রহমান অডিটোরিয়ামে আয়োজিত বিভাগীয় মতবিনিময় সভায় অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ভবিষ্যতে যেন কোনো মায়ের বুক খালি না হয়, যেন গুম-খুন না হয়—সে প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে দেশ কীভাবে চলবে, রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামো কেমন হবে—তা নির্ধারণ করবে এবারের গণভোট।
তিনি বলেন, গণভোটের মাধ্যমে সংসদে জনগণের সব মতামতের প্রতিফলন ঘটার সুযোগ সৃষ্টি হবে। তবে কেবল সনদ বা ভোটই যথেষ্ট নয়; কার্যকর আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা বন্ধ করা সম্ভব নয়।
এর আগে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে রাজশাহী হযরত শাহ মখদুম কেন্দ্রীয় ঈদগা মাঠে অনুষ্ঠিত রাজশাহী বিভাগীয় ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, গণভোট নিয়ে দেশের সব রাজনৈতিক দল একমত। কারণ এটি জনগণের প্রত্যক্ষ মতামত গ্রহণের একটি ঐতিহাসিক সুযোগ।
তিনি বলেন, গণভোট শুধু আগামী পাঁচ বছরের জন্য নয়, বরং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থা ও গণতন্ত্রের পূর্ণ প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য। রাষ্ট্র কীভাবে পরিচালিত হবে, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশন কীভাবে স্বাধীনভাবে কাজ করবে—এসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জনগণের ম্যান্ডেটের মাধ্যমেই নিতে হবে। এ কারণেই গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে। নাগরিক হিসেবে সবার দায়িত্ব গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া।
আরও পড়ুন: সরকার অপশক্তির কাছে নতিস্বীকার করেছে: টিআইবি
অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কিছু ভিন্নমত থাকলেও গণভোট আয়োজনের প্রশ্নে কোনো রাজনৈতিক দলের মধ্যেই দ্বিমত নেই। মানুষ এখন ভোট দিতে চায়, কিন্তু সেই পরিবেশ বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। সেই গণতান্ত্রিক পরিবেশকে পূর্ণভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতেই জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যদি রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক কাঠামো নিয়ে তাদের মতামত দেয়, তাহলে ভবিষ্যৎ সরকার ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো জনগণের ইচ্ছা অনুযায়ী পরিচালিত হতে বাধ্য হবে। বাংলাদেশে ভয়াবহ দুর্নীতি হয়েছে। এসব বন্ধ করতে হলে দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী ও স্বাধীন করতে হবে। তবে শুধু একটি প্রতিষ্ঠান দিয়ে দুর্নীতি বন্ধ করা সম্ভব নয়; সংসদের সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোকেও কার্যকর করতে হবে।
ইমাম সম্মেলনে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আব্দুস ছালাম খানের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আর এন এম বজলুর রশীদ, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি ড. মোহাম্মদ শাহজাহান, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ড. জিল্লুর রহমান এবং জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার।
একই দিনে নগরীর হযরত শাহ মখদুম (রহ.) ঈদগাহে রাজশাহী বিভাগের ইমামদের আরেক সম্মেলনে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, জুলাই সনদ বিষয়ে ভোটারদের ম্যান্ডেট বা গণভোট ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং গণতন্ত্রের পূর্ণ প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য। রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক কাঠামো এবং বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত গণভোটের মাধ্যমেই আসবে।
গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এই সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার, রাজশাহী বিভাগের কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ, পুলিশের ডিআইজি ড. মোহাম্মদ শাহজাহান এবং আরএমপি কমিশনার ড. জিল্লুর রহমান বক্তব্য রাখেন। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আব্দুস সালাম খান।
বিকেলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ মিলনায়তনে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের বিভাগীয় মতবিনিময় সভায় অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, মানুষ পরিবর্তন না চাইলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান হতো না। মানুষ না চাইলে এই প্রক্রিয়ায় দেশ চলত না।
তিনি বলেন, অনেকেই প্রশ্ন করেন গণভোটের প্রতীক কী—গণভোটেরও প্রতীক আছে, তা হলো টিক চিহ্ন। সবাইকে টিক চিহ্ন দিয়ে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি পুনরায় বলেন, এই গণভোট শুধু আগামী পাঁচ বছরের জন্য নয়, বরং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থা ও গণতন্ত্রের পূর্ণ প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তি তৈরি করবে।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টার আরেক বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ, পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান এবং রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ড. মো. জিল্লুর রহমান।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








