ইরানে বিক্ষোভে ৫০০ ছাড়াল নিহত
ছবি: সংগৃহীত
ইরানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নিয়েছে। টানা দুই সপ্তাহের নজিরবিহীন অস্থিরতায় নিহতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে গেছে বলে দাবি করেছে মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ (HRANA)।
এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেওয়ায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। এর জবাবে ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত নিলে তার চড়া মূল্য দিতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত বিক্ষোভে ৪৯০ জন বিক্ষোভকারী ও ৪৮ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন। একই সময়ে গ্রেফতার করা হয়েছে ১০ হাজার ৬০০-এর বেশি মানুষকে।
যদিও ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করেনি, তবে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তেহরানের বিভিন্ন মর্গে সারিবদ্ধভাবে পড়ে থাকা লাশের ব্যাগের দৃশ্য দেখানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ নিহতদের ‘সশস্ত্র সন্ত্রাসী’ হিসেবে অভিহিত করছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, “ইরান স্বাধীনতার স্বাদ পাচ্ছে—যা আগে কখনো হয়নি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সাহায্যের জন্য প্রস্তুত।”
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ট্রাম্প তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি বিশেষ বৈঠকে বসবেন। সেখানে তাকে চারটি বিকল্প উপস্থাপন করা হতে পারে—সরাসরি সামরিক হামলা, গোপন সাইবার অস্ত্রের ব্যবহার, আরও কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং বিক্ষোভকারীদের ইন্টারনেটসহ প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান।
মার্কিন হুমকির জবাবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও রেভল্যুশনারি গার্ডের সাবেক কমান্ডার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ কড়া বার্তা দিয়েছেন। আজ ইরানের পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, “ইরানের ওপর কোনো হামলা হলে ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত সব মার্কিন ঘাঁটি ও যুদ্ধজাহাজ আমাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।”
এদিকে গত বৃহস্পতিবার থেকে ইরানে সম্পূর্ণভাবে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। এর মধ্যেই উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর তীব্র সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, মাশহাদের বিভিন্ন রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ চলছে এবং বিস্ফোরণের শব্দও শোনা গেছে।
এ ছাড়া তেহরানের রাস্তায় রাতভর মিছিলের ভিডিওতে দেখা গেছে—জনসমুদ্রের যেন ‘শুরু বা শেষ নেই’।
আরও পড়ুন: ভারতে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ, নিয়ন্ত্রণে ড্রোন ও সেনাবাহিনী
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা এই পরিস্থিতিকে ইরানের ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়’ হিসেবে দেখছে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে বিষয়টি নিয়ে নিবিড় যোগাযোগ চলছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) যেকোনো পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি








