News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৮:১৯, ৯ জানুয়ারি ২০২৬

ট্রলারের আঘাতে বিধ্বস্ত তিতাসের পাইপলাইন, রাজধানীতে গ্যাস সংকট

ট্রলারের আঘাতে বিধ্বস্ত তিতাসের পাইপলাইন, রাজধানীতে গ্যাস সংকট

ফাইল ছবি

রাজধানীর আমিনবাজার সংলগ্ন তুরাগ নদীতে মালবাহী ট্রলারের ধাক্কায় তিতাস গ্যাসের প্রধান বিতরণ পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে ঢাকা মহানগরীর বিশাল এলাকা জুড়ে গ্যাসের তীব্র সংকট ও স্বল্পচাপ সৃষ্টি হয়েছে। 

শুক্রবার (০৯ জানুয়ারি) তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের এক বিশেষ বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। 

তিতাস জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত পাইপলাইনটি দ্রুত মেরামত করা হলেও কারিগরি জটিলতার কারণে সরবরাহ স্বাভাবিক হতে সময় লাগছে।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড জানিয়েছে, আমিনবাজার এলাকায় তুরাগ নদের তলদেশ দিয়ে যাওয়া বিতরণ পাইপলাইনটি একটি মালবাহী ট্রলারের নোঙরের আঘাতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। খবর পাওয়ার পরপরই জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের কাজ শুরু করে কর্তৃপক্ষ। 

তিতাস তাদের বার্তায় আরও উল্লেখ করেছে যে, পাইপলাইনটি ইতিমধ্যে মেরামত করা সম্ভব হলেও মেরামতের সময় পাইপের ভেতরে পানি ঢুকে যাওয়ায় নতুন জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। একই সময়ে জাতীয় গ্রিড থেকে ঢাকা শহরে গ্যাসের সামগ্রিক সরবরাহ কম থাকায় মহানগরীতে গ্যাসের মারাত্মক স্বল্পচাপ বিরাজ করছে। এই সমস্যা নিরসনে কারিগরি দল নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

আরও পড়ুন: দেশে আবারও ভূমিকম্প অনুভূত

গ্যাসের এই আকস্মিক সংকটের কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। মিরপুর, খিলগাঁও, নিকেতন, পূর্ব রাজাবাজার এবং কলাবাগানসহ অধিকাংশ এলাকায় সকাল থেকেই চুলা জ্বলছে না। অনেক এলাকায় রাত ১১টা বা ১টার পর গ্যাস আসায় গভীর রাত পর্যন্ত জেগে গৃহিণীদের রান্নার কাজ সারতে হচ্ছে।

পূর্ব রাজাবাজারের বাসিন্দা রুমানা জানান, সারা দিন গ্যাস না থাকায় রাত ১টার পর তাকে রান্না করতে হয়। স্বল্প আয়ের মানুষ হওয়ায় তার পক্ষে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা করা সম্ভব হচ্ছে না। 

অন্যদিকে, মিরপুরের বাসিন্দা রহিমা ও খিলগাঁওয়ের ফাতেমা তুজ জোহরা জানান, গ্যাসের অভাবে তারা এখন রাইস কুকার বা বৈদ্যুতিক চুলার ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন। নিকেতনের বাসিন্দা সাদি ইসলাম জানান, খুব ভোরে সামান্য গ্যাস থাকলেও সারা দিন চুলা জ্বলে না, ফলে দুপুরের খাবার বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে কিনে খেতে হচ্ছে।

তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ তাদের ফেসবুক পেজ এবং গণমাধ্যমে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। সরবরাহ লাইনের ভেতরে জমে থাকা পানি অপসারণ এবং গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে। উদ্ভূত এই সাময়িক অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে তিতাস কর্তৃপক্ষ।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়