News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২১:২৫, ৭ জানুয়ারি ২০২৬

২০৫০ সাল পর্যন্ত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের নতুন মহাপরিকল্পনা

২০৫০ সাল পর্যন্ত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের নতুন মহাপরিকল্পনা

ছবি: সংগৃহীত

দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি হিসেবে পরিচিত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে সম্পূর্ণ নতুন ও আধুনিক কাঠামোতে ঢেলে সাজাতে ‘জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত মহাপরিকল্পনা ২০২৬-২০৫০’ উপস্থাপন করা হয়েছে। 

বুধবার (০৭ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় এই দীর্ঘমেয়াদী ও কৌশলগত পরিকল্পনা তুলে ধরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। 

সভায় প্রধান উপদেষ্টা অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এই খাতের উন্নয়নে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও বিশ্বমানের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান (R&D Institute) গঠনের নির্দেশ দেন।

স্বতন্ত্র গবেষণা প্রতিষ্ঠান গঠনের নির্দেশ সভায় প্রধান উপদেষ্টা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ে গবেষণার জন্য মন্ত্রণালয় থেকে সম্পূর্ণ পৃথক একটি উচ্চমানের গবেষণা প্রতিষ্ঠান তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। 

তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের জন্য এমন একটি আলাদা শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হতে হবে যা মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকবে না। এটি বিশ্বের নামী সংস্থাগুলোর সাথে সরাসরি যোগাযোগ রাখবে এবং সরকারের জন্য সঠিক পলিসি তৈরি করবে। 

অতীতের প্রকল্পগুলোতে ভুল লোকেশন বা ভুল স্ট্রাকচার চিহ্নিত করে তিনি বলেন, অতীতের ভুল সংশোধন করে আমাদের একদম শুরু থেকে চিন্তা করতে হবে। খাপছাড়াভাবে কাজ করার দিন শেষ। একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামো ও নিয়মের মধ্যে যেন সবকিছু থাকে, সেটি নিশ্চিত করতেই গবেষণাকেন্দ্র জরুরি। এ সময় তিনি বিকল্প জ্বালানির উৎস নিয়েও গবেষণার নির্দেশনা দেন।

আরও পড়ুন: গুম হওয়া ব্যক্তির সম্পত্তি বণ্টনে ট্রাইব্যুনালের বিশেষ ক্ষমতা

নতুন এই মহাপরিকল্পনাটি তিন ধাপে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে: প্রথম ধাপ ২০২৬-২০৩০ সাল, দ্বিতীয় ধাপ ২০৩০-২০৪০ সাল এবং তৃতীয় ধাপ ২০৪০-২০৫০ সাল। 

সভায় জানানো হয়, ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ‘ফার্স্ট ট্র্যাক প্রায়োরিটি প্রজেক্টস’ হিসেবে অফশোর অনুসন্ধান রাউন্ড, গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি, এলএনজি সরবরাহ নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, রিফাইনারি সক্ষমতা সম্প্রসারণ এবং কৌশলগত জ্বালানি মজুদ সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ সম্পন্ন করা হবে।

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে অফশোর গ্যাস উন্নয়ন, বৃহৎ পরিসরে রিফাইনিং ও পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প সম্প্রসারণ, হাইড্রোজেন ও অ্যামোনিয়া অবকাঠামো উন্নয়ন, ভূ-তাপীয় (জিওথার্মাল) শক্তি এবং জোয়ার-ভাটা ও সমুদ্র তরঙ্গভিত্তিক নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদন।

চাহিদা বৃদ্ধি ও পরিবেশগত টেকসই লক্ষ্যমাত্রা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০৫০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা বর্তমানের ১৭ গিগাওয়াট থেকে বেড়ে ৫৯ গিগাওয়াটে পৌঁছাবে। এই বিশাল চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় পরিচ্ছন্ন ও দক্ষ প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। 

মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী, আধুনিক প্রযুক্তির প্রভাবে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে কার্বন নিঃসরণ ০.৬২ টন থেকে কমে ০.৩৫ টন (CO₂/মেগাওয়াট-ঘণ্টা) এ নেমে আসবে। এর ফলে ২০৫০ সালের মধ্যে বার্ষিক ৬৪.৫ মিলিয়ন টন এবং সর্বমোট ১,৬০০ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ হ্রাস করা সম্ভব হবে।

বিনিয়োগ ও নীতিগত সংস্কার এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিশাল অংকের বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৬ থেকে ২০৫০ সাল পর্যন্ত জ্বালানি খাতে ৭০ থেকে ৮৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ১০৭.২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে। ইতোমধ্যে সংস্কারের অংশ হিসেবে বিতর্কিত ‘কুইক রেন্টাল আইন’ (২০১০) বাতিল করা হয়েছে এবং মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি ২০২৫, রিনিউয়েবল এনার্জি পলিসি ২০২৫, রুফটপ সোলার প্রোগ্রাম ও নেট মিটারিং গাইডলাইন ২০২৫ গ্রহণ করা হয়েছে।

উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ সভায় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, বিডা-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।

প্রধান উপদেষ্টা তার সমাপনী বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণ এই খাতে নিহিত। এটি সবল হলে পুরো অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং দেশের প্রতিটি মানুষের জীবনমান উন্নত হবে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়