গুম হওয়া ব্যক্তির সম্পত্তি বণ্টনে ট্রাইব্যুনালের বিশেষ ক্ষমতা
ফাইল ছবি
গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের আইনি সুরক্ষা প্রদান এবং উত্তরাধিকারীদের সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিত করতে বিদ্যমান আইনে গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী এনেছে সরকার। নতুন এই বিধানের ফলে কোনো ব্যক্তি টানা ৫ বছর গুম থাকলে এবং জীবিত ফিরে না আসলে, বিশেষ ট্রাইব্যুনাল তার সম্পত্তি বৈধ উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টনযোগ্য বলে ঘোষণা করতে পারবে।
বুধবার (০৭ জানুয়ারি) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের মুদ্রণ ও প্রকাশনা শাখা থেকে গত মঙ্গলবার (০৬ জানুয়ারি) এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। অধ্যাদেশটি ইতোমধ্যে জনসাধারণের অবগতির জন্য সরকারি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। সংশোধিত এই আইনটি ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫ সংশোধনকল্পে প্রণীত অধ্যাদেশ, ২০২৬’ নামে অভিহিত হবে এবং এটি অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূলত গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা নিরসন এবং মানবিক দিক বিবেচনা করে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
সংশোধিত অধ্যাদেশের ২৩ ধারায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতদিন পর্যন্ত ‘দ্য এভিডিয়েন্স অ্যাক্ট, ১৮৭২’ (সাক্ষ্য আইন)-এর ১০৮ ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে মৃত বলে গণ্য করতে বা তার উত্তরাধিকার নিশ্চিতে সাধারণত ৭ বছর নিখোঁজ থাকার বিধান ছিল।
আরও পড়ুন: ‘সত্যকে চাপা দেওয়া যায় না, ডিএনএ শনাক্তকরণই তার প্রমাণ’
তবে নতুন এই বিশেষ অধ্যাদেশ অনুযায়ী, ৫ বছর গুম থাকার বিষয়টি প্রমাণিত হলে উত্তরাধিকারীরা সম্পত্তির অধিকার চেয়ে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারবেন। ট্রাইব্যুনাল আবেদনের সত্যতা যাচাই সাপেক্ষে দ্রুততম সময়ে সম্পত্তি বণ্টনের আদেশ দিতে পারবে।
উল্লেখ্য যে, এই সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট প্রবিধান প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত আবেদনের পদ্ধতি ট্রাইব্যুনাল নিজেই নির্ধারণ করার ক্ষমতা লাভ করেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের জন্য আইনি লড়াই এখন থেকে আরও সহজতর হবে। নতুন সংশোধনীতে গুম হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী বা নির্ভরশীল সদস্যদের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করতে পূর্বের মতো তদন্ত কমিশনের আগাম অনুমতির বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে তারা সরাসরি ট্রাইব্যুনালে মামলা বা আইনি কার্যধারা শুরু করতে পারবেন। তবে আবেদনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ট্রাইব্যুনাল প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট তদন্ত কমিশনের নিকট থেকে প্রতিবেদন তলব করতে পারবে।
মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে ১৩ ধারায় পরিবর্তন এনে বলা হয়েছে, ট্রাইব্যুনালে অভিযোগকারীর পক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার প্রয়োজনীয় সংখ্যক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) নিয়োগ দেবে। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে বা কমিশন না থাকলে সরকার সরাসরি পিপি নিয়োগ অথবা জেলা ও মহানগর পর্যায়ের পিপি বা অতিরিক্ত পিপি-দের ট্রাইব্যুনালের অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করতে পারবে। পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবারের পছন্দ অনুযায়ী ব্যক্তিগত আইনজীবী নিয়োগের অধিকারও পূর্ণাঙ্গভাবে সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।
এই আইনের সুবিধা কারা পাবেন তার একটি সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
সংশোধনী অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর গঠিত তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে যাদের নাম এসেছে অথবা এই অধ্যাদেশ ও ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) অ্যাক্ট, ১৯৭৩’-এর অধীনে দায়েরকৃত মামলায় যারা গুম হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছেন, তারাই এই আইনের আওতাভুক্ত হবেন।
তবে শর্ত থাকে যে, ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত আদেশ প্রদানের পূর্ব পর্যন্ত ওই ব্যক্তিকে নিখোঁজ বা গুম থাকতে হবে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








