News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৭:৫৫, ৭ জানুয়ারি ২০২৬

‘এবারের নির্বাচন হবে লাইনচ্যুত ট্রেনকে লাইনে ফিরিয়ে আনা’

‘এবারের নির্বাচন হবে লাইনচ্যুত ট্রেনকে লাইনে ফিরিয়ে আনা’

ছবি: সংগৃহীত

দেশের বর্তমান নির্বাচনি ব্যবস্থা অনেকটা লাইনচ্যুত ট্রেনের মতো উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, আগামী ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন হবে সেই ট্রেনকে পুনরায় লাইনে ফিরিয়ে এনে সচল করার একটি প্রচেষ্টা। 

তিনি বলেন, ন্যূনতম সংস্কার এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ পরিবর্তনের মাধ্যমে নির্বাচনি ব্যবস্থাকে অন্তত কার্যকর গতিতে ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে কমিশন। এটি সম্ভব হলে তাকেই নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক বড় সাফল্য হিসেবে গণ্য করা হবে।

বুধবার (০৭ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনজিও ব্যুরো কার্যালয়ে ৮১টি সংস্থার মোর্চা ‘অ্যালায়েন্স ফর ফেয়ার ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’ (এএফইডি)-এর একটি প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দেশের নির্বাচনি ব্যবস্থার চলমান সংস্কার কার্যক্রমের প্রসঙ্গ টেনে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনকে একটি ভেঙে পড়া কাঠামোকে পুনরায় সচল করার চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বড় ধরনের আমূল পরিবর্তন হয়তো একবারে সম্ভব নয়, তবে ন্যূনতম রিপেয়ার বা মেরামতের মাধ্যমে গতি ফিরিয়ে আনা গেলে সেটিই হবে আমাদের বড় অর্জন। এরপর ধাপে ধাপে উন্নতির দিকে এগোতে হবে। 

তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচন ব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্বরতদের অভিজ্ঞতা ও সংস্কার বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জগুলো প্রায় একই ধরনের।

ইসি সানাউল্লাহ তার বক্তব্যে ১৯৯১, ২০০৮ এবং আসন্ন ২০২৬ সালের নির্বাচনের তুলনা করে বলেন, এই তিনটি সময়েই নির্বাচনি ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য আইনি সংস্কার হয়েছে। ১৯৯১ সালে কর্মকর্তাদের জন্য কার্যকর আইনি কাঠামো তৈরি হওয়ায় ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে সুফল পাওয়া গিয়েছিল। এরপর ২০০৭ সালে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন ও প্রার্থীর যোগ্যতাসহ নানা বিধান যুক্ত হলেও পরবর্তী তিনটি নির্বাচনে সেসব উন্নত করার সুযোগ হয়নি। ২০২৬ সালের নির্বাচন সামনে রেখে পুনরায় আইনি ও বিধিগত সংস্কার হয়েছে, যেখানে নির্বাচনবিষয়ক সংস্কার কমিশন প্রশংসার দাবিদার। তবে কিছু ঘাটতি থেকে গেলে তা নির্বাচনের পর পর্যালোচনা করে ধাপে ধাপে পরিমার্জন করা হবে।

আরও পড়ুন: নির্বাচনের আগে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার জরুরি: ইসি সানাউল্লাহ

নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি তাদের কমিশনের ‘তৃতীয় নয়ন’ হিসেবে অভিহিত করেন। 

তিনি বলেন, বিগত তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনে কিছু সংস্থার ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় এবার অনেককে নিবন্ধন দেওয়া সম্ভব হয়নি। তিন শতাধিক আবেদনের বিপরীতে ৮১টি সংস্থাকে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। 
তিনি আরও জানান, আমি খুশি হতাম যদি ২০০ বা ৩০০ সংস্থা মাঠে কাজ করত। তবে যারা নিবন্ধিত হয়েছেন, তাদের বস্তুনিষ্ঠ ও মানসম্মতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। নীতিমালা মেনে পর্যবেক্ষকদের সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন তিনি।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে নির্বাচন কমিশন সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে জানিয়ে তিনি অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের গুরুত্বারোপ করেন। প্রথমবার ভোটার হওয়া তরুণ, দীর্ঘদিন ভোট দিতে না পারা মানুষ, নারী, প্রতিবন্ধী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা কমিশনের অগ্রাধিকার। এছাড়া গণভোটের প্রচারণায় ইমামসহ অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে ডেমোক্রেসি ওয়াচের চেয়ারপারসন তালেয়া রহমান, খান ফাউন্ডেশনের কো-চেয়ার রোকসানা খন্দকারসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থা এবং বিদেশি দূতাবাসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়