News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৭:৫২, ৬ জানুয়ারি ২০২৬

নির্বাচনের আগে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার জরুরি: ইসি সানাউল্লাহ

নির্বাচনের আগে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার জরুরি: ইসি সানাউল্লাহ

ছবি: সংগৃহীত

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। 

নির্বাচন কমিশনার (অব.) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগে সহিংসতা রোধে এবং সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা অত্যন্ত জরুরি।

মঙ্গলবার (০৬ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে আসন্ন নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ‘বৃহত্তর চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সেল’-এর সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

ইসি সানাউল্লাহ জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের বিভিন্ন থানা ও পুলিশ স্থাপনা থেকে মোট ৫ হাজার ৭৫৩টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৬ লাখ ৫১ হাজার ৮৩২টি গোলাবারুদ লুট হয়েছিল। এর মধ্যে ১৫ শতাংশ অস্ত্র এবং ৩০ শতাংশ গুলি এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এই বিশাল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র নির্বাচনের সময় বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

তবে উদ্ধার তৎপরতা জোরালোভাবে চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ শুরু হয়েছে। এই বিশেষ অভিযানে এখন পর্যন্ত ২০০টিরও বেশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি সকল প্রকার অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধে কঠোর হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: নির্বাচনের পরিবেশ এখন পর্যন্ত সন্তোষজনক: সিইসি

নির্বাচনী এলাকায় দুষ্কৃতিকারীদের প্রবেশ ঠেকাতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো সিল করে দেওয়ার ঘোষণা দেন এই নির্বাচন কমিশনার। 

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে যাতে কেউ বের হয়ে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটাতে না পারে, সেজন্য ক্যাম্পগুলোতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে হবে। একই সঙ্গে স্থল সীমান্ত ও সাগরপথে নজরদারি বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি, যাতে কোনো অবৈধ অস্ত্র বা বহিরাগত সন্ত্রাসী নির্বাচনী এলাকায় প্রবেশ করতে না পারে।

বিগত বছরগুলোর নেতিবাচক অভিজ্ঞতা কাটিয়ে ভোটারদের কেন্দ্রমুখী করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ইসি সানাউল্লাহ। 

তিনি বলেন, ভোটাররা ভোট দিতে মুখিয়ে আছেন। অতীতের অপ্রীতিকর ঘটনার পুনরাবৃত্তি সামনে আর হবে না ইনশাআল্লাহ।

চট্টগ্রামের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও স্পর্শকাতর বিষয়গুলো নিয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্বার্থান্বেষী মহল যেন সংখ্যালঘুদের ওপর কোনো আঘাত হানতে না পারে, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। বৃহত্তর চট্টগ্রামের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্মূল্যায়ন করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি অভিযানের আপডেট নিয়মিত গণমাধ্যমে প্রচার করতে হবে। এতে অপরাধীদের মধ্যে ভীতির সৃষ্টি হবে এবং তারা জানবে যে অপকর্ম করে পার পাওয়া সম্ভব নয়। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আখ্যা দিয়ে তিনি সতর্ক করেন যে, এই নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হলে সবাইকে এর চরম পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়