শোকজ ও গ্রেফতার শেষে জামিনে মুক্ত সেই বৈষম্যবিরোধী নেতা
ছবি: সংগৃহীত
হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানায় ওসির সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ এবং সরকারি কাজে বাধা প্রদানের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসানকে জামিন দিয়েছেন আদালত।
রবিবার (০৪ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-৩ আব্দুল মান্নানের আদালত শুনানি শেষে তার জামিন মঞ্জুর করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের শায়েস্তাগঞ্জ সদর ইউনিয়ন সহ-সভাপতি এনামুল হাসানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং এনামুলের মুক্তির দাবিতে গত শুক্রবার দুপুরে মাহদী হাসানের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী শায়েস্তাগঞ্জ থানা ঘেরাও করেন।
সে সময় ওসির কক্ষে অবস্থানকালে মাহদী হাসানের একটি কথোপকথনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।
ভিডিওতে তাকে শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালামকে উদ্দেশ্য করে বলতে শোনা যায়, জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা সরকার গঠন করেছি... বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে কিন্তু আমরা জ্বালাই দিয়েছিলাম।
আরও পড়ুন: কঠোর হচ্ছে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন: ই-সিগারেট নিষিদ্ধ, বাড়ছে জরিমানা
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি কাজে বাধা প্রদানের অভিযোগে গতকাল শনিবার রাত পৌনে ৮টার দিকে হবিগঞ্জ শহরের শাস্তোনগর এলাকা থেকে মাহদীকে আটক করে শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশ।
মাহদী হাসানকে আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে শনিবার সন্ধ্যা থেকে আজ সকাল পর্যন্ত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শতাধিক নেতাকর্মী হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। তারা রাতেই বিশেষ আদালত বসিয়ে মাহদীর জামিন শুনানির দাবি জানান। তবে রাতে আদালত না বসায় আজ সকাল ৮টায় কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে আদালতে পাঠানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আদালত প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল।
এদিকে ওসির সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর মাহদী হাসানের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। সংগঠনের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তাকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে। শনিবার দুপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
মাহদী হাসানের আইনজীবী এম এ মজিদ জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে জামিন আবেদন করা হয়েছিল। আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে তাকে জামিন দেওয়ার আদেশ দেন।
আদালত প্রাঙ্গণের পুলিশ পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম জানান, পুলিশের সঙ্গে অশোভন আচরণ ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগেই তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছিল। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








