News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৮:৩৭, ১২ জানুয়ারি ২০২৬

জুলাই হত্যাচেষ্টা মামলায় অব্যাহতি পাচ্ছেন শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জন

জুলাই হত্যাচেষ্টা মামলায় অব্যাহতি পাচ্ছেন শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জন

ফাইল ছবি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ধানমন্ডিতে সাহেদ আলীসহ ১০ জনকে হত্যাচেষ্টার মামলায় আহতদের হদিস না পাওয়ায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন গত ৫ নভেম্বর আদালতে দাখিল করা হয়। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত হয়েছে।

পিবিআই পরিদর্শক শাহজাহান ভূঞাঁ মামলার তদন্তে জানিয়েছেন, মামলায় উল্লেখিত আহতদের তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হলেও তারা পাওয়া যায়নি। এ কারণে ‘তথ্যগত ভুলে’র কথা উল্লেখ করে আসামিদের আপাতত অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। 
পিবিআই জানিয়েছে, যদি ভবিষ্যতে আহতদের তথ্য পাওয়া যায়, তখন অভিযোগপত্র পুনরায় দাখিল করা হবে।

মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক মন্ত্রী হাছান মাহমুদ, মোহাম্মদ এ আরাফাত, জুনাইদ আহমেদ পলক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুব উল আলম হানিফ, শামীম ওসমান, ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানসহ মোট ১১৩ জন।

মামলাটি ধানমন্ডি থানায় দায়ের করা হয় ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়ে ৪ আগস্ট সীমান্ত স্কয়ার থেকে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে ধানমন্ডি ২৭ নম্বরের মীনা বাজারের সামনে সাহেদ আলী আহত হন। ওই ঘটনায় ঢাকা কলেজ ও সিটি কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থীসহ মোট ৯ জন আহত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। সাহেদের কথিত ভাই শরীফ ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে আসামি করে মামলা করেন।

মামলার তদন্তকালে ধানমন্ডি থানা পুলিশ চারজনকে গ্রেফতার করে। এরপর মামলার তদন্তভার পায় পিবিআই। 

তদন্তে জানা যায়, শাহজাহান ভূঞাঁ আহতদের খুঁজতে সীমান্ত স্কয়ার মার্কেট, ঢাকা কলেজ, সিটি কলেজ এবং আশেপাশের হাসপাতালে চিঠি পাঠান। বাদীকে নোটিশ দিয়ে তার ভাইকে থানায় হাজির করার জন্যও অনুরোধ করা হয়। তবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন: হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্রে শুনানি ১৫ জানুয়ারি

পিবিআই তদন্তে বাদীর বাড়ি, হাজারীবাগের ভাড়া বাসা এবং জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করা হয়। 

জানা যায়, বাদীর আসল নাম শরিফুল ইসলাম, তিনি লক্ষ্মীপুর সদরের মান্দারী এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে। খোঁজ নেওয়া হলেও তাকে কেউ চিনতে পারেননি। বাদীর মোবাইল নম্বর প্রায়ই বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা যায়নি। পরে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগের পর ধানমন্ডি লেকের পাশে তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেই সময় তাকে আহতদের হাজির করতে এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্র সরবরাহের অনুরোধ করা হলেও তা দীর্ঘদিনের পরও দেওয়া হয়নি। মামলায় উল্লেখিত আহতদের চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো তথ্যও পাওয়া যায়নি।

মামলার বাদী শরীফ অভিযোগ করেছেন, আমি তদন্ত সংস্থার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। মামলাটি করার পর থেকেই থ্রেট পাচ্ছি। আসামিরা হুমকি দিয়েছে। বিচার চাওয়া কি অপরাধ?

থানা পুলিশ যে চারজনকে গ্রেফতার করেছিল তারা হলেন শাকিল হোসেন ইমরান, কামরুল হাসান ওরফে কামু, মারুফ হোসেন এবং মাসুদ রানা বেপারী। 

কামরুল হাসান ওরফে কামুর আইনজীবী পীযূষ কান্তি জানিয়েছেন, আমার মক্কেল হয়রানির শিকার হয়েছেন। বিষয়টি আমরা আদালতকে জানিয়েছি। আদালতও পরিস্থিতির স্বীকার।

পিবিআই জানিয়েছে, মামলায় আহতদের তথ্য না পাওয়ায় এবং তথ্যগত ভুলের কারণে আপাতত মামলার আসামিদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।

আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি আদালত পিবিআইয়ের এই চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে মামলার ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আবুল বাশার।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়