News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৬:১২, ৭ জানুয়ারি ২০২৬

১২০ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন তদন্তে দুদকের জালে জিয়াউল আহসান

১২০ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন তদন্তে দুদকের জালে জিয়াউল আহসান

ছবি: সংগৃহীত

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, মানি লন্ডারিং এবং প্রায় ১২০ কোটি টাকার অস্বাভাবিক ব্যাংক লেনদেনের অভিযোগে করা মামলায় ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক ও সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। 

বুধবার (০৭ জানুয়ারি) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ দেন।

আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এদিন সকাল ১০টায় জিয়াউল আহসানকে কারাগার থেকে ঢাকা মহানগর আদালতের হাজতখানায় আনা হয়। বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে তাকে কড়া নিরাপত্তায় এজলাসে তোলা হয়। শুনানির একপর্যায়ে দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে আদালত আসামিকে তার আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি দিলে মহানগর হাজতখানায় তার বোন অ্যাডভোকেট নাজনীন নাহারসহ অন্য আইনজীবীরা তার সাথে সাক্ষাৎ করেন। 

আসামিপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার আসিফুর রহমান জানান, তারা এদিন ওকালতনামা জমা দিলেও কোনো জামিন আবেদন করেননি।

দুদকের উপপরিচালক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. হাফিজুল ইসলাম তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন। 

আরও পড়ুন: সুপ্রিম কোর্ট সংক্রান্ত মিথ্যা সংবাদ প্রচারে আইনানুগ দায়ভার

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আদাবর থানার একটি মামলায় গ্রেফতার হয়ে জিয়াউল আহসান বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। এই মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে এই দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার দেখানো প্রয়োজন। গত বছরের ২৩ জানুয়ারি দুদকের উপপরিচালক মো. সালাউদ্দিন বাদী হয়ে জিয়াউল আহসান ও তার স্ত্রী নুসরাত জাহানের বিরুদ্ধে এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ১৯৯১-৯২ অর্থবছর থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত জিয়াউল আহসানের বৈধ আয়ের পরিমাণ ছিল প্রায় ৬ কোটি ৩১ লাখ টাকা। তবে অনুসন্ধানে তার নামে ২২ কোটি ২৭ লাখ ৭৮ হাজার ১৪২ টাকার অসংগতিপূর্ণ ও অবৈধ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের সন্ধান পায় দুদক। এছাড়া ‘গাইডলাইন অব ফরেন এক্সচেঞ্জ ট্রানজ্যাকশন’ লঙ্ঘন করে নিজের ব্যাংক হিসাবে ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার জমা করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

তদন্ত প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, জিয়াউল আহসান তার নিজ নামে থাকা আটটি সক্রিয় ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১২০ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন করেছেন। তিনি তার পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে স্ত্রী নুসরাত জাহানের যোগসাজশে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তর করেছেন। এমনকি তার বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত একটি এতিমখানার ব্যাংক হিসাবেও সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং সেনাবাহিনীর তহবিল থেকে অর্থ উত্তোলনের বিষয়টিও বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ওই বছর ১৫ আগস্ট গভীর রাতে ঢাকার খিলক্ষেত এলাকা থেকে জিয়াউল আহসানকে প্রথম আটক করা হয়। বর্তমানে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলাসহ একাধিক মামলায় কারাবন্দি রয়েছেন। 

দুদক জানিয়েছে, এই বিশাল আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়