News Bangladesh

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৫:১১, ১ মার্চ ২০২৬

করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটে হামলা, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত ৯

করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটে হামলা, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত ৯

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু এবং ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে পাকিস্তানের বন্দরনগরী করাচি। 

রবিবার (০১ মার্চ) সকালে করাচিতে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেট অভিমুখে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৯ জন নিহত এবং ১৮ জন আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় গণমাধ্যম।

বিক্ষোভটি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিবাদে আয়োজন করা হয়েছিল। বিক্ষোভকারীরা এম টি খান রোডে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটের বাইরে জড়ো হয়ে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বাধ্য হয়। 

প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীরা পাথর নিক্ষেপ করেছিল এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে অন্যান্য সহিংস কর্মকাণ্ড চালায়।

পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ার শেল নিক্ষেপ এবং বলপ্রয়োগ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। সংঘর্ষের সময় গুলি, লাঠিচার্জ ও পদদলনের কারণে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এক পর্যায়ে, বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুলিশ এবং রেঞ্জার মাঠে মোতায়েন করা হয়।

আরও পড়ুন: কুয়েতে বাজছে সাইরেন, দুবাইয়ে বিস্ফোরণের শব্দ

ইদি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে এম টি খান রোড থেকে ৬টি মরদেহ এবং ১০ জন আহতকে করাচি সিভিল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে হাসপাতালের ট্রমা সেন্টার থেকে মোট ৭টি মরদেহ এবং ১৮ জন আহতকে আনা হয়েছে।

সংঘর্ষের পর সিন্ধু প্রদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জিয়াউল হাসান লাঞ্জার করাচির অতিরিক্ত আইজির কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করেন। 

তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, কাউকে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে দেয়া হবে না। এছাড়া প্রদেশজুড়ে সংবেদনশীল স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন।

বিক্ষোভের কারণে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যান চলাচল ব্যাহত হয়। সুলতানাবাদ থেকে মাই কোলাচি পর্যন্ত উভয়মুখী সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং জিন্নাহ ব্রিজ থেকে আসা যানবাহন ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। 

করাচি ট্রাফিক পুলিশ জানিয়েছে, পিআইডিসি থেকে আসা যানবাহন বিকল্প পথে পরিচালিত হচ্ছে।

এই ঘটনা পাকিস্তানে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ বাড়িয়েছে এবং মার্কিন দূতাবাসসহ অন্যান্য সংবেদনশীল স্থাপনায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়