কুয়েতে বাজছে সাইরেন, দুবাইয়ে বিস্ফোরণের শব্দ
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা চরম আকার ধারণ করেছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিশোধ নিতে এবার বড় ধরনের সামরিক অভিযানে নেমেছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
রবিবার (০১ মার্চ) মধ্যপ্রাচ্যের ২৭টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে একযোগে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এই হামলার প্রভাবে দুবাইয়ে জোরালো বিস্ফোরণ এবং প্রতিবেশী কুয়েতজুড়ে বিমান হামলার সতর্কবার্তা বা সাইরেন বেজে ওঠায় পুরো অঞ্চলে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা রয়টার্সের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে কয়েকটি ‘জোরালো’ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে বিস্ফোরণের উৎস বা কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখার কথা জানিয়েছে।
অন্যদিকে কুয়েতে সরাসরি বিস্ফোরণের খবর না মিললেও দেশজুড়ে বিমান হামলার সতর্কতা সাইরেন সক্রিয় করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় সাইরেনের শব্দ শোনা গেছে, যা সম্ভাব্য আকাশপথে হামলার আশঙ্কা নির্দেশ করে। এতে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কুয়েত সরকার জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং সরকারি নির্দেশনা অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছে।
আরও পড়ুন: দুবাইয়ের ফাইভ-স্টার হোটেলে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত, আহত ৪
এর আগের দিন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সে ঘটনায় তিন বাংলাদেশি আহত হন বলে নিশ্চিত করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
রবিবার আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, ইসরাইল এবং অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ‘ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা’ চালানো হয়েছে।
তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ইসরাইলের তেল নোফ বিমানঘাঁটি, তেল আবিবে অবস্থিত ইসরাইলি সেনাবাহিনীর কমান্ড সদর দপ্তর হাকিরিয়া কমপ্লেক্স এবং একই শহরের একটি বড় প্রতিরক্ষা শিল্প স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু ছিল।
ইরান ঘোষণা করেছে, যুক্তরাষ্ট্রকে যেসব দেশ তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দিচ্ছে, তারাও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। এ প্রেক্ষাপটে কুয়েতের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ দেশটিতে উল্লেখযোগ্য মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি রয়েছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো পরিস্থিতিকে দ্রুত অবনতিশীল আঞ্চলিক সংকট হিসেবে চিহ্নিত করছে। কাতার ও কুয়েতের মতো উপসাগরীয় দেশগুলো সরাসরি সংঘাতের পরিধিতে চলে আসায় পুরো অঞ্চলের অর্থনীতি ও স্থিতিশীলতা চাপে পড়েছে। কুয়েত সরকার ইতোমধ্যে জরুরি অবস্থা জারি করেছে এবং নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করতে নির্দেশ দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একাংশ এই পরিস্থিতিকে ‘পূর্ণমাত্রার আঞ্চলিক যুদ্ধ’-এর সূচনালগ্ন হিসেবে বর্ণনা করছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








