News Bangladesh

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৬:৪৬, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬

ইন্দোনেশিয়ায় বিমান বিধ্বস্ত, ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার

ইন্দোনেশিয়ায় বিমান বিধ্বস্ত, ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত

ইন্দোনেশিয়ার দক্ষিণ সুলাওয়েসি প্রদেশে একটি মাছসম্পদ নজরদারি অভিযানে নিয়োজিত উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে বিমানে থাকা সব ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। 

দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় টানা উদ্ধার অভিযানের পর শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে নিখোঁজ থাকা শেষ দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থা।

বিধ্বস্ত উড়োজাহাজটি ছিল এটিআর ৪২–৫০০ মডেলের একটি টারবোপ্রপ বিমান, যার মালিকানা ছিল ইন্দোনেশিয়ার বেসরকারি বিমান পরিষেবা সংস্থা ইন্দোনেশিয়া এয়ার ট্রান্সপোর্ট (আইএটি)। উড়োজাহাজটি ইন্দোনেশিয়ার সামুদ্রিক বিষয় ও মৎস্যসম্পদ মন্ত্রণালয়ের চার্টার করা ছিল এবং দক্ষিণ সুলাওয়েসি দ্বীপের মৎস্যসম্পদের ওপর আকাশপথে নজরদারি পরিচালনার দায়িত্বে ছিল।

রয়টার্স ও এএফপির তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (১৮ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে দক্ষিণ সুলাওয়েসির মারোস অঞ্চলের আকাশসীমায় বিমানটি এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে। এর আগে উড়োজাহাজটি রাজধানী জাকার্তা থেকে মাকাসার শহরের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিল। বিমানে মোট ১০ জন আরোহী ছিলেন, যাদের মধ্যে সাতজন কেবিন ক্রু এবং তিনজন যাত্রী। যাত্রীরা সবাই সামুদ্রিক বিষয় ও মৎস্যসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা।

বিমানটি নিখোঁজ হওয়ার পরপরই অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। দক্ষিণ সুলাওয়েসি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও উদ্ধার সংস্থার কর্মকর্তা অ্যান্ডি সুলতান জানান, দুর্গম পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হয়। প্রথম দিকে পাহাড়ের খাড়া ঢালে অনুসন্ধান চালিয়ে আটজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে শুক্রবার সকালে মাউন্ট বুলুসারাউং পাহাড়ি এলাকায় আরও দুইজনের মরদেহ শনাক্ত করা হয়।

আরও পড়ুন: চালু হতেই আবার বন্ধ বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক কেন্দ্র

উদ্ধারকারী সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিমানটির ধ্বংসাবশেষ বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পাওয়া গেছে। ফিউজলাজ, লেজের অংশ ও জানালাসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ পাহাড়চূড়ার কাছাকাছি এলাকায় উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলটি রাজধানী জাকার্তা থেকে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থার এক ভিডিও বার্তায় আবেগাপ্লুত কণ্ঠে অ্যান্ডি সুলতান জানান, নবম ও দশম মরদেহ উদ্ধারের পর মৃতদের দেহ সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সংস্থাটি তাদের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টেও সব ১০ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

এদিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা কমিটি (কেএনকেটি) আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে। সংস্থাটির প্রধান স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বুধবার বিমানটির ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার করা হয়েছে এবং ফ্লাইট রেকর্ডার ও প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণের কাজ চলছে।

এটি গত এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে ইন্দোনেশিয়ায় এটিআর ৪২ মডেলের বিমানের প্রথম প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। এর আগে ২০১৫ সালে পাপুয়া অঞ্চলে ট্রিগানা এয়ার সার্ভিসের একটি এটিআর ৪২–৩০০ বিমান পাহাড়ে আছড়ে পড়ে ৫৪ জন নিহত হন। এছাড়া ২০২১ সালে শ্রীবিজয়া এয়ারলাইন্সের একটি বোয়িং ৭৩৭–৫০০ বিমান জাভা সাগরে বিধ্বস্ত হয়ে ৬২ জনের মৃত্যু হয়।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহৎ দ্বীপ রাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়ায় হাজারো দ্বীপের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষায় বিমান পরিবহনের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করতে হয়। তবে দেশটির বিমান চলাচল নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে, কারণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিক মারাত্মক বিমান ও হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা ঘটেছে।

সূত্র: রয়টার্স, এএফপি

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়