News Bangladesh

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৭:০৭, ২০ জানুয়ারি ২০২৬

পাকিস্তানে ৫.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে ১ জনের মৃত্যু

পাকিস্তানে ৫.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে ১ জনের মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় গিলগিট-বালতিস্তানে ৫.৮ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে অন্তত একজন নিহত হয়েছেন এবং কয়েক ডজন মাটির ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো বন্ধ হয়ে গেছে।

সোমবার (২০ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ২১ মিনিটে ভূমিকম্পটি সংঘটিত হয়।

আঞ্চলিক সরকার জানায়, ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে হুনজা জেলার বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে হুনজা উপত্যকা ও এর আশপাশের অঞ্চলে। কম্পনের তীব্রতা উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানের একাধিক জেলায় অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের পর হুনজা ও পার্শ্ববর্তী শহরগুলোতে বড় ধরনের ভূমিধস দেখা দেয়, যার ফলে করাকোরাম মহাসড়ক (কেকেএইচ) ও বেশ কয়েকটি সংযোগ সড়ক বন্ধ হয়ে যায়।

পাকিস্তানের আবহাওয়া অধিদপ্তর (পিএমডি) জানায়, ভূমিকম্পটি স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ২১ মিনিটে সংঘটিত হয়। এর উৎপত্তিস্থল ছিল পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে এবং ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। 

অন্যদিকে ইউরোপিয়ান–মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) ভূমিকম্পটির মাত্রা ৫.৭ হিসেবে রেকর্ড করেছে এবং উৎপত্তিস্থলের গভীরতা উল্লেখ করেছে ৩১ কিলোমিটার, যা বালিশাল এলাকা থেকে প্রায় ৫৮ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানে ব্যাংক লুট ও থানায় হামলা, নিহত ১২

গিলগিট-বালতিস্তানের কেয়ারটেকার তথ্য মন্ত্রী গোলাম আব্বাস জানান, হুনজা জেলার আপার গোজালের চিপুরসন উপত্যকায় ভূমিকম্পের প্রভাব সবচেয়ে বেশি ছিল। পাকিস্তান-চীন সীমান্তসংলগ্ন এই এলাকায় একাধিক ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। ইশকোমান উপত্যকায় একটি ভূমিধসের সময় মোটরসাইকেলে থাকা দুই আরোহীর ওপর পাহাড় ধসে পড়ে। এতে খুশ বাইগ (৬০) ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত আফজাল খান (৩৫) কে গাহকুচের জেলা সদর হাসপাতাল (ডিএইচকিউ) এ ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।

উদ্ধারকারী সংস্থা রেসকিউ ১১২২ জানায়, চিপুরসন গ্রামের দুই শিশু ও এক নারী আহত হন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সোস্তের গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। ভূমিকম্পে বেশ কয়েকটি কাঁচা বাড়ি, গবাদিপশুর শেড, সড়ক ও পানির চ্যানেলে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং কিছু এলাকায় বড় ধরনের ভূমি চ্যুতি লক্ষ্য করা গেছে।

গিলগিট-বালতিস্তান সরকারের যোগাযোগ ও গণপূর্ত বিভাগের (সিএন্ডডব্লিউ) ভারী যন্ত্রপাতি দ্রুত মোতায়েন করে করাকোরাম মহাসড়কসহ বন্ধ হয়ে যাওয়া সড়কগুলো খুলে দেওয়া হয়। পরে এসব সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়।

হুনজার ডেপুটি কমিশনার নিজামুদ্দিন বলেন, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল সম্ভবত চিপুরসন উপত্যকার আশপাশে। তিনি জানান, ওই এলাকায় গত কয়েক মাস ধরেই ভূগর্ভস্থ কম্পন অনুভূত হচ্ছিল। বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব নিরূপণে মাঠপর্যায়ে বিস্তারিত মূল্যায়ন কার্যক্রম চলছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য পরাঘাত (আফটারশক) নিয়ে বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, পাকিস্তান একটি সক্রিয় ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের ওপর অবস্থিত। দেশটিতে মাঝারি থেকে শক্তিশালী ভূমিকম্প প্রায়ই অনুভূত হয়। এর আগে ২০০৫ সালে পাকিস্তান ও কাশ্মীর অঞ্চলে সংঘটিত ৭.৬ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে। কাশ্মীর অঞ্চলটি পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে বিভক্ত এবং উভয় দেশই অঞ্চলটির ওপর দাবি করে থাকে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়