অবশেষে জামায়াতের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে নীরবতা ভাঙল নয়াদিল্লি
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে ভারতীয় কূটনীতিকদের বৈঠকের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে ভারত।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর মাধ্যমে দীর্ঘ ১৫ দিনের নীরবতা ভেঙে জামায়াত আমিরের দাবির স্বপক্ষে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করল প্রতিবেশী দেশটি।
সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রয়েছে। সেই সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় ভারতীয় হাইকমিশনের কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবে বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপে অংশ নেন। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে হওয়া বৈঠকটিও ওই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই দেখা উচিত।
তবে বৈঠকটি কেন গোপন রাখা হয়েছিল—এ বিষয়ে তিনি কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।
এর আগে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রথমবারের মতো ওই বৈঠকের কথা প্রকাশ্যে আনেন। তিনি জানান, এ বছরের শুরুতে—২০২৫ সালে তার বাইপাস সার্জারির পর—ভারতের একজন কূটনীতিক তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তবে অন্যান্য দেশের কূটনীতিকদের মতো সেই সাক্ষাৎ প্রকাশ্যে আনা হয়নি; বরং ভারতীয় কূটনীতিকরা বৈঠকটি গোপন রাখার অনুরোধ করেছিলেন।
রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অন্যান্য দেশের কূটনীতিকেরা যেমন প্রকাশ্যে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন, ভারতীয় কূটনীতিক তেমনটি করেননি।
তার ভাষায়, আমাদের সবার কাছে এবং একে অপরের কাছে উন্মুক্ত হতে হবে। আমাদের সম্পর্কোন্নয়ন ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই।
এই বক্তব্য প্রকাশের পর বৈঠকটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। রয়টার্স তখন বিষয়টি নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রায় ১৫ দিন পর শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠকের বিষয়টি স্বীকার করল নয়াদিল্লি।
আরও পড়ুন: খামেনির পতনে ভুগবে ভারত
এদিকে সাক্ষাৎকার প্রকাশের পর নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি ব্যাখ্যামূলক পোস্ট দেন।
সেখানে তিনি জানান, রয়টার্সের একজন সাংবাদিক তাকে প্রশ্ন করেছিলেন—ভারত যেহেতু প্রতিবেশী দেশ, তাদের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর কোনো যোগাযোগ বা বৈঠক হয় কি না।
পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান লেখেন, গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে অসুস্থতা থেকে সুস্থ হয়ে বাসায় ফেরার পর দেশ-বিদেশের অনেকেই তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসেন। অন্যান্য দেশের সম্মানিত কূটনীতিকদের পাশাপাশি ভারতের দুজন কূটনীতিকও তাকে দেখতে তার বাসায় এসেছিলেন এবং অন্যান্যদের মতো তাদের সঙ্গেও তার কথা হয়েছে।
তিনি আরও লেখেন, জামায়াতে ইসলামী চেয়েছিল অন্যান্য কূটনীতিকদের মতো ভারতীয় কূটনীতিকদের ওই সাক্ষাৎও প্রকাশ্যে আনতে। কিন্তু তখন তারা বিষয়টি পাবলিসিটিতে না দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন।
পরে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ভবিষ্যতে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট যেকোনো বৈঠক অবশ্যই প্রকাশ্যে আনা হবে এবং সেখানে গোপনীয়তার কোনো বিষয় নেই।
ফেসবুক পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান কিছু দেশীয় গণমাধ্যমে ‘গোপন বৈঠক’ শব্দ ব্যবহার করে সংবাদ প্রকাশের সমালোচনা করে লেখেন, প্রকৃত বিষয় না জেনে এমন বিভ্রান্তিকর সংবাদ পরিবেশন করা থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের এই আনুষ্ঠানিক স্বীকারোক্তি বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নয়াদিল্লির কূটনৈতিক যোগাযোগের বাস্তবতা আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। বিশেষ করে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভারতের কূটনৈতিক তৎপরতা নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে বলে মনে করছেন তারা।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








