News Bangladesh

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২০:০১, ৯ জানুয়ারি ২০২৬

কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুমকি ‘বাস্তব’: পেত্রো

কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুমকি ‘বাস্তব’: পেত্রো

ছবি: সংগৃহীত

লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো দাবি করেছেন, তার দেশের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার একটি “বাস্তব হুমকি” এখন বিদ্যমান। 

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক আচরণের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ওয়াশিংটন লাতিন আমেরিকার দেশগুলোকে সার্বভৌম রাষ্ট্র নয় বরং তাদের ‘সাম্রাজ্যের’ অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে। ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানের পর ট্রাম্পের কলম্বিয়া নিয়ে দেওয়া মন্তব্য এবং উভয় দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে পেত্রোর এই বিস্ফোরক মন্তব্য সামনে এলো।

প্রেসিডেন্ট পেত্রো অভিযোগ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকে শাসন করার মোহ নিয়ে শেষ পর্যন্ত বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। 

তিনি বলেন, বিচ্ছিন্ন হয়ে কোনো সাম্রাজ্য গড়ে ওঠেনি। বিশেষ করে মার্কিন অভিবাসন সংস্থা আইসিই (ICE)-এর কঠোর কার্যক্রমের সমালোচনা করে তিনি তাদের কর্মকাণ্ডকে ‘নাৎসি ব্রিগেডের’ সাথে তুলনা করেছেন। 

পেত্রোর মতে, এই সংস্থাটি কেবল লাতিন আমেরিকানদের রাস্তায় তাড়া করছে না, বরং সম্প্রতি মিনিয়াপোলিসে এক মার্কিন নাগরিককে গুলি করে হত্যার ঘটনার মধ্য দিয়ে তারা সাধারণ মানুষের জীবনের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি এভাবে আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষা করে চলে, তবে তারা বিশ্বব্যাপী বন্ধুহীন হয়ে পড়বে।

সম্প্রতি ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের ঘটনায় লাতিন আমেরিকায় এক অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই অভিযানের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প কলম্বিয়াকে লক্ষ্য করে সামরিক অভিযানের বিষয়টি “ভালো শোনাচ্ছে” বলে মন্তব্য করেন। 

যদিও গত বুধবার দুই নেতার মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টা দীর্ঘ একটি ফোনালাপ হয়, যা ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে “বিরাট সম্মান” হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। ওই ফোনালাপের পর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতির গুঞ্জন শোনা গেলেও বৃহস্পতিবার পেত্রোর বক্তব্যে এর বিপরীত সুর স্পষ্ট ধরা পড়ে। 

তিনি জানান, ফোনালাপের অধিকাংশ সময় তিনিই কথা বলেছেন এবং সেখানে মাদক পাচার ও ভেনেজুয়েলা সংকটের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ‘সাম্রাজ্যবাদী’ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তার উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: গাজায় শাসন ছাড়তে প্রস্তুত হামাস, সিরিজ হামলায় নিহত ১৩

ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই কলম্বিয়া ও ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে মাদক পাচার রোধে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে আসছে। হোয়াইট হাউসে ফেরার পর ট্রাম্প দেশজুড়ে ব্যাপক হারে অভিবাসনবিরোধী অভিযান শুরু করেছেন, যার ফলে ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ প্রায় ছয় লাখ মানুষকে বহিষ্কার এবং লক্ষ লক্ষ মানুষকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। ট্রাম্প সরাসরি পেত্রোকে আক্রমণ করে তাকে “অসুস্থ মানুষ” হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং মাদক বাণিজ্যে জড়িত থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন। 

এর জবাবে পেত্রো তার দীর্ঘ লড়াইয়ের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, তিনি ২০ বছর ধরে মাদক চক্রের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন এবং এর কারণে তার পরিবারকে নির্বাসনেও যেতে হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার বিরুদ্ধে কলম্বিয়া কীভাবে আত্মরক্ষা করবে—এমন প্রশ্নের জবাবে পেত্রো কিছুটা কৌশলী ও সাহসী অবস্থান নেন। 

তিনি স্বীকার করেন যে, মার্কিন বড় সেনাবাহিনীর মোকাবিলা করার মতো উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা অত্যাধুনিক অস্ত্র কলম্বিয়ার নেই। 

তবে তিনি বলেন, আমাদের শক্তি হলো আমাদের জনগণ, পাহাড় এবং জঙ্গল। ইতিহাস সাক্ষী, আমরা অতীতেও বড় শক্তির মোকাবিলা এভাবেই করেছি। 

তিনি সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং জানান যে ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গেও তিনি নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গুস্তাভো পেত্রো ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই দ্বৈরথ কেবল মাদক পাচার বা অভিবাসন কেন্দ্রিক নয়, এর মূলে রয়েছে ভূ-রাজনৈতিক আধিপত্য এবং প্রাকৃতিক সম্পদের নিয়ন্ত্রণ। 

পেত্রোর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে বেরিয়ে গিয়ে জীবাশ্ম জ্বালানি বা কয়লা ও তেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ নিতেই ভেনেজুয়েলায় যুদ্ধ বাঁধিয়েছে। 
কলম্বিয়াজুড়ে এখন সার্বভৌমত্ব রক্ষার দাবিতে বিক্ষোভ চলছে এবং পেত্রো স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, বর্তমান আলোচনার ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে লাতিন আমেরিকার এই অঞ্চলে শান্তি বজায় থাকবে নাকি যুদ্ধের দামামা বাজবে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়