News Bangladesh

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৯:০১, ১ মার্চ ২০২৬

ইরানে হামলায় ট্রাম্পকে প্ররোচিত করে ইসরায়েল ও সৌদি আরব

ইরানে হামলায় ট্রাম্পকে প্ররোচিত করে ইসরায়েল ও সৌদি আরব

সৌদি যুবরাজের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: ওয়াশিংটন পোস্ট

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা ও দেশটির ইসলামি শাসকগোষ্ঠীকে ক্ষমতাচ্যুত করতে যুক্তরাষ্ট্রকে হামলা করতে প্ররোচিত করে দুই আঞ্চলিক মিত্র ইসরায়েল ও সৌদি আরব। তাদের কয়েক সপ্তাহের জোরালো তদবির ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রকাশ্যে সৌদি আরব কূটনৈতিক সমাধানের কথা বললেও গত এক মাসে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে একাধিকবার ব্যক্তিগত ফোন কল করেছেন। এসব কলে তিনি ইরানকে আক্রমণের জন্য ট্রাম্পকে প্ররোচিত করেন। অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দীর্ঘকাল ধরেই ইরানকে অস্তিত্বের সংকট হিসেবে বিবেচনা করে দেশটিতে মার্কিন হামলার দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

সৌদি আরবের অবস্থান ছিল বেশ জটিল। একদিকে তারা ইরানের শিয়া নেতৃত্বের চরম বিরোধী, অন্যদিকে তারা নিজ দেশের তেল স্থাপনায় ইরানি পাল্টা হামলার ভয় পাচ্ছিল। তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় সৌদি নেতারা হুঁশিয়ারি দেন, এখনই আঘাত না করলে ইরান ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী ও বিপজ্জনক হয়ে উঠবে।

আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালি বন্ধ করলো ইরান, তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা

মজার বিষয় হলো, যখন ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে জেনেভায় আলোচনা চালাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই সৌদি আরব ও ইসরায়েল হামলার জন্য চাপ দিচ্ছিল। বৃহস্পতিবার জেনেভায় শেষ মুহূর্তের আলোচনায় মার্কিন কর্মকর্তাদের মনে হয়েছে, ইরান আলোচনার নামে কেবল সময়ক্ষেপণ করছে এবং গোপনে পারমাণবিক বোমা তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে চাইছে।

শুক্রবার বিকাল থেকেই ট্রাম্পের সুর চড়তে শুরু করে। টেক্সাসে এক নির্বাচনি জনসভায় তিনি বলেন, ইরানি আলোচকদের ওপর আমি খুশি নই। আমাদের সামনে একটি বড় এবং কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে। এরপরই তিনি ফ্লোরিডায় মার-এ-লাগো রিসোর্টে গিয়ে হামলার ভাষণ রেকর্ড করেন।

শনিবারের এই হামলা কয়েক দশকের মার্কিন নীতি থেকে এক বড় বিচ্যুতি। গোয়েন্দা তথ্যে আগামী ১০ বছরের মধ্যে ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে সরাসরি কোনও হুমকির কথা বলা হয়নি। তবু ট্রাম্প ১৯৭৯ সালের জিম্মি সংকট এবং ১৯৮৩ সালে বৈরুতে মার্কিন ব্যারাকে বোমা হামলার ‘প্রতিশোধ’ হিসেবে এই আক্রমণকে জায়েজ করার চেষ্টা করেছেন।

ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প ইরানিদের উদ্দেশে বলেন, আগের কোনও প্রেসিডেন্ট যা করতে চাননি, আমি আজ রাতে তা করছি। আমি আপনাদের যা চেয়েছেন তা দিচ্ছি, এখন দেখুন আপনারা কী প্রতিক্রিয়া দেখান।

ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী যেন শান্তিকামী মানুষের সঙ্গে মিলে দেশ পুনর্গঠনে কাজ করে। তবে প্রশ্ন উঠছে, কেবল আকাশপথের হামলা দিয়ে ইরানের মতো ৯০ মিলিয়ন মানুষের একটি দেশের শাসনব্যবস্থা কি পরিবর্তন করা সম্ভব? সাবেক মার্কিন কূটনীতিক অ্যারন ডেভিড মিলারের মতে, কেবল বিমান শক্তি দিয়ে কোনও দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি বদলে দেওয়ার ইতিহাস খুব একটা সুখকর নয়।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এনডি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়