তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে ‘সর্বাত্মক যুদ্ধের’ ঘোষণা পাকিস্তানের
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ। ছবি: সংগৃহীত
আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের উত্তেজনা এখন সরাসরি এক ভয়াবহ সামরিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোররাত থেকে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়া প্রদেশের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বড় ধরনের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। এটি পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিক মাসগুলোর উত্তেজনার সবচেয়ে সরাসরি সামরিক মুখোমুখি ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই হামলার পরপরই পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘প্রকাশ্য ও সর্বাত্মক যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছেন।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙেছে। এখন আমাদের এবং আফগানিস্তানের মধ্যে প্রকাশ্য যুদ্ধ শুরু হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেছেন, পাকিস্তান পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরাসরি ও বন্ধু দেশগুলোর মাধ্যমে সর্বাত্মক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়েছে, তবে কোনো ফল হয়নি।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আত্তাউল্লাহ তারার দাবি করেছেন, বিমান হামলায় আফগান তালেবানের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি, পোস্ট ও গোলাবারুদ ডিপো লক্ষ্য করা হয়েছে।
তিনি জানিয়েছেন, অভিযানে ১৩৩ আফগান তালেবান সদস্য নিহত এবং প্রায় ২০০ আহত হয়েছে। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি সামরিক পোস্ট ধ্বংস বা দখল করা হয়েছে। পাকিস্তান এই অভিযানের নাম দিয়েছে “অপারেশন ঘজব লিল হক”।
আফগানিস্তানের তালেবান সরকারি মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ স্বীকার করেছেন, পাকিস্তান কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়ায় বিমান হামলা চালিয়েছে।
তবে তিনি দাবি করেছেন, হামলায় কোনো বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। একই সঙ্গে আফগান বাহিনীও পাকিস্তানি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে প্রতিরক্ষা ও পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানের `অপারেশন গজব-লিল হক` শুরু, ১৩৩ আফগান সেনা নিহত
পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে আফগানিস্তান তাদের ভূখণ্ডে সক্রিয় জঙ্গিগোষ্ঠী, বিশেষ করে তেহরিক‑ই‑তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং ইসলামিক স্টেট-খোরাসান (আইএসকেপি)‑কে আশ্রয় দিচ্ছে, যারা পাকিস্তানে আত্মঘাতী হামলা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালায়। তালেবান সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
গত বছরের অক্টোবর মাসে সীমান্তে সংঘর্ষে দুই দেশের অন্তত ৭০ জনের বেশি নিহত হয়। এর পর থেকে বেশিরভাগ স্থলবন্দর বন্ধ রয়েছে।
কাবুলে এএফপি ও আল–জাজিরার সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, শুক্রবার ভোরের দিকে জোরালো বিস্ফোরণ ও যুদ্ধবিমানের শব্দে শহর কেঁপে উঠেছে। স্থানীয়রা নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। কান্দাহার ও পাকতিয়ায়ও একই রকম বিস্ফোরণের তথ্য পাওয়া গেছে।
আফগান তালেবানও জানিয়েছে, তারা সীমান্তবর্তী পাকিস্তানি স্থাপনা লক্ষ্য করে প্রতিশোধমূলক অভিযান চালিয়েছে।
উভয় দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির পর রাশিয়া, চীন, তুরস্ক ও সৌদি আরব পরিস্থিতি শান্ত করতে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে। ইরানও সহায়তা ও পরামর্শ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো বেসামরিক হতাহতের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছে।
পাকিস্তান পারমাণবিক শক্তিধর দেশ এবং সামরিক সক্ষমতায় আফগানিস্তানের তুলনায় এগিয়ে। তবে তালেবান দীর্ঘদিনের গেরিলা যুদ্ধের অভিজ্ঞতায় অভ্যস্ত।
বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এই উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে তা দীর্ঘমেয়াদি সীমান্ত সংঘাতে রূপ নিতে পারে এবং দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








