News Bangladesh

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১২:২০, ১১ জানুয়ারি ২০২৬
আপডেট: ১২:২৭, ১১ জানুয়ারি ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি কর্মকর্তার গুলিতে নারী নিহত, দেশজুড়ে বিক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি কর্মকর্তার গুলিতে নারী নিহত, দেশজুড়ে বিক্ষোভ

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) কর্মকর্তার গুলিতে এক নারী নিহত হওয়ার পর তীব্র ঠান্ডা ও ঝোড়ো হাওয়া উপেক্ষা করে শহরের রাস্তায় নামেন কয়েক হাজার মানুষ। 

শনিবার (১০ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ ও সমাবেশের কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী বিক্ষোভকারীরা রেনে গুডের নাম ধরে স্লোগান দেন এবং ‘অ্যাবলিশ আইস’, ‘নো জাস্টিস, নো পিস—গেট আইস অব আওয়ার স্ট্রিটস’সহ বিভিন্ন ধরণের প্রতিবাদী উক্তি প্রদান করেন।

ঘটনায় নিহত ৩৭ বছর বয়সী রেন গুড ছিলেন মিনিয়াপোলিসে আইস কার্যক্রম পর্যবেক্ষণকারী একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য। গুলিতে তার মৃত্যু ছড়িয়ে দেয় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া, যা মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট নেতারা এবং রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। মিনিয়াপোলিস শহরে প্রায় ৩.৮ মিলিয়ন মানুষ বাস করেন এবং বিক্ষোভকারীরা আদিবাসী মেক্সিকান নৃত্যশিল্পীদের একটি দলের নেতৃত্বে সেই আবাসিক সড়কের দিকে মিছিল করেন, যেখানে রেন গুড গুলিবিদ্ধ হন।

মিনেসোটা প্রশাসন এবং স্থানীয় কর্মকর্তারা এই গুলির ঘটনাকে ‘অযৌক্তিক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। 

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, রেন গুডের গাড়িটি আইস কর্মকর্তার দিক থেকে সরে যাচ্ছিল এবং ঠিক সেই সময় গুলি চালানো হয়। 

তবে আইসের তত্ত্বাবধায়ক সংস্থা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) দাবি করেছে, ওই কর্মকর্তা আত্মরক্ষার্থেই গুলি চালিয়েছেন। 

সংস্থার বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গুডের গাড়ি কর্মকর্তার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল এবং এর আগে অন্য একজন আইস কর্মকর্তা তাকে গাড়ি থেকে নামতে বলেছিলেন।

বিক্ষোভকারীদের মধ্যে একজন, ৩০ বছর বয়সী এলিসন মন্টগোমারি, ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, আমি ভীষণ ক্ষুব্ধ, পুরোপুরি হৃদয়ভাঙা ও বিধ্বস্ত। তবে ভেতরে একটা আশা কাজ করছে যে, কিছু একটা ভালো হবে।

গত বুধবারের এই গুলির ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটে, যখন মিনিয়াপোলিস–সেন্ট পল এলাকায় প্রায় দুই হাজার ফেডারেল কর্মকর্তা মোতায়েন করা হয়। ডিএইচএস এটিকে তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অভিযান বলে অভিহিত করেছে। এতে রাজ্যের ডেমোক্র্যাট নেতৃত্ব ও ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

আরও পড়ুন: ইরানে বিক্ষোভ নিয়ে সামরিক পদক্ষেপ বিবেচনায় ট্রাম্প

ঘটনার পর দিন, অর্থাৎ বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি), ওরেগনের পোর্টল্যান্ডে এক মার্কিন বর্ডার প্যাট্রোল কর্মকর্তা গাড়ি থামানোর চেষ্টা করার সময় গুলি চালিয়ে এক নারী ও এক পুরুষকে আহত করেন। 
ডিএইচএস বলেছে, ওই চালক কর্মকর্তাদের চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, যা মিনিয়াপোলিসের ঘটনার সঙ্গে তুলনীয়।

রেন গুডের মৃত্যু এবং পোর্টল্যান্ডে সাম্প্রতিক এই গুলির ঘটনায় প্রগতিশীল ও নাগরিক অধিকার সংগঠন যেমন ইন্ডিভিজিবল ও আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ) ‘আইস আউট ফর গুড’ ব্যানারে শনিবার ও রোববার (১০–১১ জানুয়ারি) দেশজুড়ে এক হাজারেরও বেশি সমাবেশ ও বিক্ষোভের ডাক দেয়। সহিংসতার ঝুঁকি কমাতে সব সমাবেশ সূর্যাস্তের আগে শেষ করার পরিকল্পনা করা হয়।

ফিলাডেলফিয়ায় বিক্ষোভকারীরা সিটি হল থেকে একটি ফেডারেল আটক কেন্দ্রে মিছিল করেন এবং সেখানে ‘আইসকে চলে যেতে হবে’, ‘নো ফ্যাসিস্ট ইউএসএ’ স্লোগান দেন। নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে কয়েকশ মানুষ অভিবাসন আদালতের পাশ দিয়ে মিছিল করেন, যেখানে শুনানির পর অভিবাসীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। 

ইন্ডিভিজিবলের সহ-নির্বাহী পরিচালক লিয়া গ্রিনবার্গ বলেন, আমরা রেনের জন্য বিচার চাই, আমাদের সমাজ থেকে আইসকে বের করে দিতে চাই এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ চাই। যথেষ্ট হয়েছে।

গত শুক্রবার রাতে মিনিয়াপোলিসে কিছু হোটেলের জানালা ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার অভিযোগে ২৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে বলেন, অভিযান মূলত শান্তিপূর্ণ হলেও সরকারি সম্পত্তি নষ্টকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রেনি গুডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনজন ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য—অ্যাঞ্জি ক্রেগ, কেলি মরিসন এবং ইলহান ওমর—মিনেসোটার সেন্ট পলের একটি আইস দপ্তর পরিদর্শন করতে গেলে তাদের ভেতরে ঢুকতে দেয়া হয়নি। 

অ্যাঞ্জি ক্রেগ বলেন, আইস এবং ডিএইচএস ফেডারেল আইন লঙ্ঘন করছে। আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে মানবিক আচরণ করা হচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।

এই বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে, রেনি গুডের মৃত্যু ও সম্প্রতি ঘটিত আইস সংক্রান্ত ঘটনার কারণে মার্কিন সমাজে অভিবাসন নীতি ও ফেডারেল কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও সামাজিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়