ইরানে বিক্ষোভ নিয়ে সামরিক পদক্ষেপ বিবেচনায় ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এই প্রেক্ষাপটে দেশটিতে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
রবিবার (১১ জানুয়ারি) প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে কীভাবে এবং কোন পরিসরে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে—সে বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বিস্তারিতভাবে ব্রিফ করেছেন। আলোচনায় একাধিক বিকল্প পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার নির্দেশ দেননি, তবু বিষয়টি প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে গুরুত্ব পাচ্ছে।
সংবাদমাধ্যমটিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু ও কৌশল নিয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। এসব পরিকল্পনার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা সংশ্লিষ্ট বিকল্পও রয়েছে, যার মধ্যে বেসামরিক স্থাপনার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত বলে জানা গেছে।
এর আগে, আরেক প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছিল, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যদি নির্দেশ দেন, তাহলে ইরানের সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে বড় পরিসরে বিমান অভিযান চালানোর প্রস্তুতি রয়েছে।
আরও পড়ুন: আইএস দমনে সিরিয়াজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বড় সামরিক হামলা
এদিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে। সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর অবস্থান নিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে বিক্ষোভ সবচেয়ে তীব্র আকার ধারণ করার পর শুক্রবার ও শনিবারও দেশের বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন।
সংঘাতপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে হতাহতদের চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া তথ্যে জানা গেছে, রাজধানী তেহরানসহ কয়েকটি শহরের হাসপাতালে নিহত ও আহত মানুষের সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠানকে জরুরি পরিস্থিতির ব্যবস্থাপনায় যেতে হয়েছে।
তেহরানের একটি হাসপাতালের এক চিকিৎসক জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে তরুণদের মাথা ও হৃদপিণ্ড লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি ছোড়া হয়েছে।
অপরদিকে, একটি চক্ষু হাসপাতালের চিকিৎসক জানান, অতিরিক্ত রোগীর চাপে তাদের হাসপাতাল ‘ক্রাইসিস মুডে’ চলে গেছে এবং হতাহতদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে তারা কুলিয়ে উঠতে পারছিলেন না।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, আহতদের দ্রুত চিকিৎসা দিতে হাসপাতালগুলোকে বাড়তি জনবল ও সরঞ্জাম ব্যবহার করতে বাধ্য হতে হয়েছে। টানা সংঘাতে স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
এদিকে, বিক্ষোভকারীদের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। এখন পর্যন্ত নিহত নিরাপত্তা সদস্যের সংখ্যা ১৪ জন বলে জানা গেছে।
চলমান এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মহল নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন কূটনৈতিক পথের পাশাপাশি সামরিক বিকল্পও খোলা রাখছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল, বিবিসি
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








