News Bangladesh

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৮:৪৯, ১১ জানুয়ারি ২০২৬

আইএস দমনে সিরিয়াজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বড় সামরিক হামলা

আইএস দমনে সিরিয়াজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বড় সামরিক হামলা

ছবি: সংগৃহীত

সিরিয়ার ঐতিহাসিক শহর পালমিরায় ইসলামিক স্টেটের (আইএস) অতর্কিত হামলায় দুই মার্কিন সেনা ও এক বেসামরিক দোভাষী নিহত হওয়ার পর দেশটিতে আইএসের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বড় পরিসরের সামরিক অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। 

মার্কিন সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, এই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন হকআই স্ট্রাইক’।

শনিবার এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, গ্রিনিচ মান সময় বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে সিরিয়াজুড়ে একযোগে এসব হামলা চালানো হয়। এতে মধ্য ও গ্রামীণ এলাকা জুড়ে আইএসের একাধিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। হামলার নির্দিষ্ট অবস্থান কিংবা এতে হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত আকাশপথের ভিডিওতে গ্রামীণ এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা গেছে। 

সেন্টকম জানিয়েছে, এই অভিযান যুক্তরাষ্ট্র ও অংশীদার বাহিনীর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হলেও কোন কোন বাহিনী এতে অংশ নিয়েছে, তা স্পষ্ট করা হয়নি।

সেন্টকমের বিবৃতিতে আইএসকে উদ্দেশ করে কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়। 

এতে বলা হয়, আমাদের বার্তা স্পষ্ট—আমাদের যোদ্ধাদের ক্ষতি করলে আমরা আপনাদের খুঁজে বের করব এবং পৃথিবীর যেখানেই থাকুন না কেন, হত্যা করব। বিচার এড়াতে যত চেষ্টাই করুন, কোনো লাভ হবে না।

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য হলো সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা করা এবং সিরিয়ায় অবস্থানরত মার্কিন ও মিত্র বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

বিবিসির যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগী সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক মার্কিন কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে ২০টিরও বেশি বিমান অংশ নেয় এবং ৩৫টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে ৯০টিরও বেশি নির্ভুল অস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। অভিযানে অংশ নেওয়া বিমানগুলোর মধ্যে ছিল এফ-১৫ই, এ-১০, এসি-১৩০জে, এমকিউ-৯ ড্রোন এবং জর্ডানের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান।

আরও পড়ুন: ইরানে বিক্ষোভ দমনে ‘রেড লাইন’ ঘোষণা আইআরজিসির

ডিসেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন প্রথম ‘অপারেশন হকআই স্ট্রাইক’-এর ঘোষণা দেয়। এর আগে, গত ১৩ ডিসেম্বর সিরিয়ার মধ্যাঞ্চলের পালমিরায় একটি মার্কিন বাহিনী-সম্পৃক্ত গাড়িবহরে আইএসের এক বন্দুকধারী হামলা চালায়। ওই হামলায় দুই মার্কিন সেনা ও একজন মার্কিন বেসামরিক দোভাষী নিহত হন। পালমিরা ইউনেসকো তালিকাভুক্ত প্রাচীন ঐতিহ্যের ধ্বংসাবশেষের জন্য পরিচিত এবং এক সময় শহরটি আইএস যোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল।

সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি অনুযায়ী, পালমিরার ওই হামলায় জড়িত ব্যক্তি দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ছিলেন। কট্টর মতাদর্শের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার প্রক্রিয়া চলছিল বলে জানানো হয়।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর তথ্যমতে, ১৯ ডিসেম্বর থেকে মধ্য সিরিয়ায় আইএসআইএলের অবকাঠামো ও অস্ত্রভাণ্ডার লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলা শুরু করা হয়। ওই দিন প্রায় ৭০টি স্থাপনায় আঘাত হানা হয়। সেন্টকম জানিয়েছে, ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে প্রায় ২৫ জন আইএসআইএল যোদ্ধাকে হত্যা বা আটক করা হয়েছে।

শনিবার এক্সে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এই অভিযানের প্রসঙ্গে লিখেছেন, আমরা কখনো ভুলব না, কখনো থামব না। 

তিনি আরও বলেন, এটি কোনো নতুন যুদ্ধের সূচনা নয়, বরং মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলার প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ।

দীর্ঘদিন ধরে সিরিয়ায় আইএসবিরোধী লড়াইয়ে কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান মিত্র। তবে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতনের পর থেকে ওয়াশিংটন ক্রমেই দামেস্কের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াচ্ছে।

গত বছরের শেষ দিকে এক সমঝোতার মাধ্যমে সিরিয়া বৈশ্বিক আইএসআইএলবিরোধী জোটে যোগ দেয়। ওই সময় সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা হোয়াইট হাউস সফর করেন। 

সিরীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত মাসে দামেস্কের উপকণ্ঠ থেকে আইএসআইএলের শীর্ষ নেতা তাহা আল-জুবিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই সিরিয়ায় মার্কিন সেনা উপস্থিতি নিয়ে সন্দিহান অবস্থান বজায় রেখেছেন। প্রথম মেয়াদে সেনা প্রত্যাহারের নির্দেশ দিলেও শেষ পর্যন্ত কিছু সেনা দেশটিতে থেকে যায়। বর্তমানে সিরিয়ায় প্রায় এক হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে সেনা সংখ্যা কমানো হবে এবং সিরিয়ায় অবস্থিত একাধিক ঘাঁটি একত্র করে একটি ঘাঁটিতে সীমিত করা হবে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়