News Bangladesh

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৯:৩০, ৯ জানুয়ারি ২০২৬
আপডেট: ১৯:৩০, ৯ জানুয়ারি ২০২৬

গাজায় শাসন ছাড়তে প্রস্তুত হামাস, সিরিজ হামলায় নিহত ১৩

গাজায় শাসন ছাড়তে প্রস্তুত হামাস, সিরিজ হামলায় নিহত ১৩

হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম। ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল অবস্থায় দীর্ঘদিনের শাসনভার একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কমিটির কাছে হস্তান্তর করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে হামাস।

হামাস ঘোষণা করেছে, তারা গাজার প্রশাসনিক দায়িত্ব একটি স্বাধীন কমিটির কাছে হস্তান্তর করতে প্রস্তুত এবং ভবিষ্যতে এই ভূখণ্ডে কোনো ক্ষমতার অংশীদার হতে চায় না।

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম জানান, গাজার প্রশাসন তদারক করার জন্য একটি স্বাধীন কমিটি গঠনের অপেক্ষায় রয়েছে তারা। 

কাসেম বলেন, হামাস সহজে শাসনভার হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে এবং ওই স্বাধীন কমিটির কাজে সহায়তা করবে। 

তিনি জোর দিয়ে বলেন, গাজা উপত্যকা পরিচালনায় হামাস যে কোনো প্রশাসনিক কাঠামোর বাইরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মূলত ২০২৪ সালের মার্চে গাজাসংক্রান্ত জরুরি আরব শীর্ষ সম্মেলনে গাজার অস্থায়ী প্রশাসন কার্যক্রম নিয়ে একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য একটি স্বাধীন প্রশাসনিক কমিটি গঠন করা হবে। কমিটিটি নিরপেক্ষ টেকনোক্র্যাটদের নিয়ে গঠিত হবে এবং ফিলিস্তিন সরকারের অধীনে কাজ করবে।

আরও পড়ুন: পুরো ইরানজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ

তবে রাজনৈতিক এই সমঝোতার এই আলোচনার মধ্যেই গাজায় বড় ধরনের হামলায় নতুন করে রক্তপাত ঘটিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। 

১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে বৃহস্পতিবার চালানো এই সিরিজ হামলায় অন্তত ১৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে পাঁচজন শিশু।

গাজার জরুরি পরিষেবা বিভাগ ‘সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি’ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। 

মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানান, দক্ষিণ গাজার বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়স্থলে ড্রোন হামলায় তিন শিশু ও আরও একজন নিহত হন। উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে ১১ বছর বয়সী এক কিশোরী এবং একটি স্কুলে আরও একজন নিহত হয়েছেন। 

এছাড়াও দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে ড্রোন হামলায় একজন ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। পৃথক হামলায় আরও দুই গাজাবাসী, যাদের মধ্যে একজন শিশু, নিহত হন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গাজা নগরের পূর্বাঞ্চলের একটি বাড়িতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় আরও চারজন নিহত হয়েছেন। 

মাহমুদ বাসাল জানান, এই হামলায় নিখোঁজদের উদ্ধারে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। 

তিনি বলেন, আজ সকাল থেকে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলার ফলে নিহতের সংখ্যা ১৩ জনে পৌঁছেছে, যা যুদ্ধবিরতি চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বৃহস্পতিবার সকালে জানিয়েছে, গাজা থেকে একটি ব্যর্থ রকেট উৎক্ষেপণের জবাবে তারা উত্তর ও দক্ষিণ গাজা উপত্যকায় হামাস সন্ত্রাসী এবং তাদের অবকাঠামোতে সুনির্দিষ্ট হামলা চালিয়েছে। 

সামরিক বাহিনী বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, গাজা থেকে রকেট উৎক্ষেপণ যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন।

গত ১০ অক্টোবর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গাজায় একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। এর ফলে ইসরায়েলি বাহিনী ও হামাসের মধ্যে সরাসরি লড়াই উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আসছে। 

হামাস মুখপাত্র হাজেম কাসেম এএফপিকে বলেন, বৃহস্পতিবার গাজায় চালানো হামলাগুলো যুদ্ধবিরতির প্রতি ইসরায়েলি দখলদার শক্তির প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসার প্রমাণ।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় গাজায় অন্তত ৪২৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। 

এর মধ্যে ২২ নভেম্বর একদিনে ২১ জন নিহত হয়, যা যুদ্ধবিরতির পর থেকে গাজায় অন্যতম রক্তক্ষয়ী দিন হিসেবে চিহ্নিত। 

অন্যদিকে একই সময়ে ফিলিস্তিনি সশস্ত্রগোষ্ঠীর হামলায় ইসরায়েলি বাহিনীর তিন সেনা নিহত হয়েছেন।

এই পরিস্থিতিতে গাজার রাজনৈতিক কাঠামো ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে। হামাস প্রশাসন হস্তান্তর এবং স্বাধীন কমিটি গঠনের মাধ্যমে প্রশাসনিক শান্তি স্থাপন করার চেষ্টা করলেও, ইসরায়েলি হামলার ফলে সাধারণ নাগরিকদের জীবন ও নিরাপত্তা বিপন্ন হচ্ছে।

সূত্র: আনাদুলো, আল-অ্যারাবিয়া, এএফপি

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়