ইরানের নিরাপত্তায় হস্তক্ষেপকারীর ‘হাত কেটে ফেলা হবে’
ইরানের প্রভাবশালী সমরবিদ আলি শামখানি। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের চলমান অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধংদেহী মনোভাব তুঙ্গে উঠেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি হস্তক্ষেপের হুমকির জবাবে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা ও প্রভাবশালী সমরবিদ আলি শামখানি। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ইরানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তায় আঘাত হানার চেষ্টা করলে হস্তক্ষেপকারীর ‘হাত কেটে ফেলা হবে’।
গত রবিবার ইরানের রাজধানী তেহরানে অর্থনৈতিক সংকট ও দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট থেকে এই অস্থিরতার সূত্রপাত। দ্রুতই তা সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং বর্তমানে এটি সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। আজ শুক্রবার বিক্ষোভ ষষ্ঠ দিনে গড়িয়েছে। ২০২২ সালের মাহসা আমিনি পরবর্তী সময়ের পর এটিই ইরানে সবচেয়ে বড় আন্দোলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সিএনএন-এর তথ্যমতে, শুক্রবার নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে অন্তত ৬ জন নিহত হয়েছেন, তবে অন্য কিছু সূত্রের দাবি নিহতের সংখ্যা ৭। এ পর্যন্ত অর্ধশতেরও বেশি মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মূলত ইরানের জাতীয় মুদ্রা রিয়ালের ব্যাপক পতন ও মুদ্রাস্ফীতি এই জনরোষের প্রধান কারণ।
ইরানের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ এক পোস্টে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের সহিংসভাবে হত্যা করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসতে এবং যেকোনো মুহূর্তে ব্যবস্থা নিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
আরও পড়ুন: ইরানে বিক্ষোভকারীদের সহায়তায় এগিয়ে আসার ঘোষণা ট্রাম্পের
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া আসে। আলি শামখানি এই হুমকিকে আন্তর্জাতিক শিষ্টাচারের লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেন।
তিনি বলেন, আমেরিকানদের ‘উদ্ধার’ করার অভিজ্ঞতা ইরাক, আফগানিস্তান থেকে গাজা পর্যন্ত ইরানের জনগণ ভালোভাবেই জানে। আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ সহ্য করা হবে না।
অন্যদিকে, ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব ও সাবেক পার্লামেন্ট স্পিকার আলি লারিজানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ দাবি করেন, এই বিক্ষোভের পেছনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের উসকানি রয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ট্রাম্পের এই ‘দুঃসাহসিকতা’ মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থ ধ্বংস করবে এবং তাদের সেনাদের নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শামখানির ‘হাত কেটে ফেলা’র রূপকটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধের ইঙ্গিত।
উল্লেখ্য, গত জুন মাসে ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত চলাকালে মার্কিন বাহিনী ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালালে ইরানও কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়েছিল।
২০২৬ সালের শুরুতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই মুখোমুখি অবস্থান বিশ্ব রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। এই অস্থিরতার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্ব সম্প্রদায় এখন গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে, এই সংঘাত কি কূটনীতির টেবিলে সমাধান হবে নাকি মধ্যপ্রাচ্য আরও একটি বড় ধরনের সামরিক যুদ্ধের দিকে ধাবিত হবে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








