News Bangladesh

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২১:৪৬, ২ জানুয়ারি ২০২৬

ইরানে বিক্ষোভকারীদের সহায়তায় এগিয়ে আসার ঘোষণা ট্রাম্পের

ইরানে বিক্ষোভকারীদের সহায়তায় এগিয়ে আসার ঘোষণা ট্রাম্পের

ছবি: সংগৃহীত

বিগত তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অস্থিরতার মুখে পড়েছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান। দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি ও চরম অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ এখন দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। 

পশ্চিমাঞ্চলীয় লোরেস্তান এবং চাহারমাহাল ও বখতিয়ারি প্রদেশে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর দফায় দফায় সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। 

রাষ্ট্র-সংযুক্ত গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, নিহতদের মধ্যে কুহদাশতে রাতভর সহিংসতায় বাসিজ আধাসামরিক বাহিনীর এক সদস্যও রয়েছেন। গত রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) থেকে সরকারের ভুল অর্থনৈতিক নীতি ও মুদ্রার ব্যাপক দরপতনের প্রতিবাদে দোকানদার ও সাধারণ মানুষ রাজপথে নামলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

ইরানের অভ্যন্তরীণ এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে এক কড়া হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

শুক্রবার (০২ জানুয়ারি) নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালালে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত ও সজাগ অবস্থায় আছে। 

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরান যদি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালায় এবং তাদের সহিংসভাবে হত্যা করে—যা তাদের চিরকালের দস্তুর—তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসবে। 

উল্লেখ্য, গত বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছিল, যা মূলত তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও সামরিক নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলি বিমান অভিযানের একটি অংশ ছিল।

আরও পড়ুন: ইয়েমেনে এসটিসি ক্যাম্পে সৌদি বিমান হামলায় নিহত ৭

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে তেহরান। ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তা আলি লারিজানি রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ গোটা অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলবে। 

লারিজানি মার্কিন জনগণকে উদ্দেশ্য করে বলেন যে, ট্রাম্পই মূলত এই দুঃসাহসিকতা শুরু করেছেন এবং তাদের উচিত নিজেদের সেনাদের নিরাপত্তার দিকে খেয়াল রাখা। ইরান লেবানন, ইরাক ও ইয়েমেনে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সমর্থন দিয়ে থাকে, ফলে এই সংঘাত আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

এদিকে পশ্চিম ইরানের স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যেকোনো ধরনের ‘অবৈধ সমাবেশ’ কঠোরভাবে এবং কোনো ছাড় না দিয়ে দমন করা হবে, যা পরিস্থিতিকে আরও সহিংস করে তোলার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

চলমান এই অস্থিরতার মধ্যে ইরানের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান কিছুটা নমনীয় ও ব্যতিক্রমী অবস্থান নিয়েছেন। ট্রাম্পের হুমকির আগেই দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি জনগণের ক্ষোভের জন্য সরাসরি নিজ প্রশাসনের ব্যর্থতাকে দায়ী করেন। 

তিনি বলেন, দোষ আমাদেরই, এর জন্য আমেরিকা বা অন্য কাউকে দায়ী করবেন না। জনগণকে সন্তুষ্ট রাখতে আমাদের সঠিকভাবে সেবা দিতে হবে এবং এই সমস্যার সমাধান আমাদেরই খুঁজে বের করতে হবে। পেজেশকিয়ান বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংলাপের প্রতিশ্রুতি দিলেও মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে যে, নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো অব্যাহত রেখেছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে যে বিক্ষোভ হয়েছিল, তার পর এটিই বর্তমান কর্তৃপক্ষের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। একদিকে অর্থনৈতিক ধস এবং মুদ্রা বিনিময় বিধিনিষেধ শিথিল করার ফলে ডলারের বিপরীতে রিয়ালের তীব্র পতন, অন্যদিকে আঞ্চলিক মিত্র সিরিয়ার বাশার আল-আসাদের পতন ও হিজবুল্লাহর ওপর ইসরায়েলি হামলার ফলে ইরান বর্তমানে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ উভয় ক্ষেত্রেই চরম কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছে। এই বহুমুখী চাপ সামলে ইরান সরকার কীভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়