ইয়েমেনে এসটিসি ক্যাম্পে সৌদি বিমান হামলায় নিহত ৭
ছবি: সংগৃহীত
ইয়েমেনের হাদরামাউত প্রদেশে সংযুক্ত আরব আমিরাত সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী সাউথ ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি)-এর ওপর বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) চালানো এই হামলায় অন্তত ৭ জন নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীটি।
বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী এসটিসি জানিয়েছে, শুক্রবার হাদরামাউত প্রদেশের আল-খাসাহ এলাকায় অবস্থিত তাদের একটি সামরিক ক্যাম্প লক্ষ্য করে সৌদি জোটের যুদ্ধবিমানগুলো সাতটি পৃথক হামলা চালায়। এসটিসি-র ওয়াদি হাদরামাউত ও মরুভূমি অঞ্চলের প্রধান মোহাম্মদ আব্দুলমালিক এই হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ইয়েমেনের তথ্য মন্ত্রণালয়ের আন্ডার সেক্রেটারি মোহাম্মদ কিজান জানান, হাদরামাউতের সামরিক অবস্থানগুলো দখলের সময় সরকারি বাহিনীর ওপর বিচ্ছিন্নতাবাদীরা অতর্কিত হামলা চালালে তার জবাবে এই বিমান হামলা চালানো হয়।
এসটিসি কর্মকর্তা আমর আল-বিদ অভিযোগ করেছেন যে, সৌদি আরব ‘শান্তিপূর্ণ অভিযানের’ ঘোষণা দিয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করেছে।
তিনি বলেন, সৌদি আরবের আসলে কোনো শান্তিপূর্ণ সমাধানের ইচ্ছা ছিল না। শান্তির ফাঁকা বুলি ছড়ানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তারা আল-খাসাহ ক্যাম্পে দফায় দফায় বিমান হামলা চালিয়েছে। তাদের কার্যক্রম শান্তির দাবির চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন কিছু নির্দেশ করে।
আরও পড়ুন: ভারী বৃষ্টিতে আফগানিস্তানে আকস্মিক বন্যা, ১৭ জনের মৃত্যু
গত বছরের ডিসেম্বরের শুরুতে এসটিসি যোদ্ধারা হাদরামাউত অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। তারা ইয়েমেন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ‘সাউথ আরাবিয়া’ নামে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন করতে চায়।
হাদরামাউতের গভর্নর সালেম আল-খানবাশি এর আগে জানিয়েছিলেন, প্রদেশটি থেকে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সরিয়ে সামরিক অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণ নিতে তারা একটি ‘শান্তিপূর্ণ’ অভিযান পরিচালনা করবেন। মূলত এসটিসিকে হাদরামাউত ও আল-মাহরা ছেড়ে যাওয়ার জন্য সৌদি আরব কয়েক সপ্তাহ ধরে সময়সীমা বেঁধে দিলেও গোষ্ঠীটি তা প্রত্যাখ্যান করে আসছিল।
ইয়েমেনে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আল-জাবের জানান, এসটিসি প্রধান আইদারাস আল-জুবাইদির ‘একগুঁয়েমির’ কারণেই পরিস্থিতি এই পর্যায়ে পৌঁছেছে।
তিনি অভিযোগ করেন, এসটিসি প্রধানের নির্দেশে এডেন বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার একটি সৌদি প্রতিনিধিদল বহনকারী বিমানকে অবতরণ করতে দেয়নি এসটিসি। এর আগে গত বুধবার সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসা অস্ত্রবোঝাই দুটি জাহাজ মুকাল্লা বন্দরে ভিড়লে সেখানেও ‘সীমিত’ হামলা চালিয়েছিল সৌদি জোট।
সৌদি জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানিয়েছেন, এই অস্ত্রগুলো ইয়েমেনের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল, যা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২০১৫ সালের প্রস্তাবের (২২১৬) সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
এই বিমান হামলার বিষয়ে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এসটিসি মুখপাত্র আনোয়ার আল-তামিমি এই হামলাকে ‘সরাসরি আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং দাবি করেছেন যে এর মাধ্যমে বর্তমান জোট সরকারের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








