News Bangladesh

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২০:১৭, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খালেদা জিয়া

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খালেদা জিয়া

ছবি: সংগৃহীত

স্বাধীনতা পরবর্তী রাজনীতির মাঠে দলের হাল ধরে চার দশকের বেশি সময় নেতৃত্ব দিয়ে আসা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রয়াণের খবর পেরিয়েছে দেশের গণ্ডি। তার মৃত্যুকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি হিসেবে তুলে ধরেছে আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদমাধ্যমগুলো।

রাজনীতিতে নবীন খালেদা জিয়া কীভাবে রাজপথ থেকে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হয়ে উঠলেন, চির প্রতিদ্বন্দ্বী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার দীর্ঘ যাত্রা এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পথ তৈরিতে কীভাবে ভূমিকা রেখে গেছেন, সেসব উঠে এসেছে সংবাধমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে।

আরও পড়ুন: খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বিশ্বনেতাদের শোক

বিবিসি
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বিবিসির প্রতিবেদনে তার ব্যক্তিগত জীবন ও রাজনৈতিক উত্তরণের চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

সংবাদমাধ্যমটি শিরোনাম করেছে, ‘খালেদা জিয়া: হত্যার শিকার নেতার বিধবা পত্নী, যিনি বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিয়ে গেছেন’।

১৯৮১ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে হত্যা এবং রাজনীতিতে প্রবেশের আগে খালেদা জিয়া কেবল একজন লাজুক গৃহবধূই ছিলেন, সে কথাও স্মরণ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি দলের হাল ধরেন। এরপর তিন মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসেন। এভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী রাজনীতিতে সবথেকে প্রভাবশালীদের একজন হয়ে ওঠেন।

রয়টার্স
লন্ডনভিত্তিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবরের শিরোনাম করেছে, ‘বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ৮০ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন’।

খালেদা জিয়াকে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তুলে ধরে রয়টার্স লিখেছে, ১৯৯১ সালে তিনি ক্ষমতায় আসেন। শেখা হসিনার সঙ্গে দীর্ঘ তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে গেছেন এবং তারা পর্যায়ক্রমে কয়েক দশক সরকার ক্ষমতায় ছিলেন।

প্রতিবেদনে খালেদা জিয়ার মামলা ও কারাবরণের ঘটনাও উঠে এসেছে।

সংবাদমাধ্যমটি লিখেছে, ২০০৬ সালে ক্ষমতা থেকে সরে আসার পর তিনি কারাবন্দি হয়েছেন, কিংবা গৃহবন্দি হিসেবে কাটিয়েছেন।

গার্ডিয়ান
খালেদা জিয়ার প্রয়াণে খবর ছেপেছে গার্ডিয়ানও। বাংলাদেশের গোটা রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে তাকে তুলে ধরেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটি।

প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, শেখ হাসিনার দীর্ঘ সময়ের প্রতিদ্বন্দ্বী, বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ৮০ বছর বয়সে মারা গেছেন। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ও ‘বিতর্কিত’ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদ্বের একজন ছিলেন তিনি।

আল জাজিরা
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যমটি শিরোনাম করেছে, ‘৮০ বছর বয়সে মারা গেছেন খালেদা জিয়া, বাংলাদেশে শোক’

প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। টালমাটাল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব তিনি।

ওয়াশিংটন পোস্ট
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে খালেদা জিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাজনৈতিক জীবনের কথা তুলে ধরেছে ওয়াশিংটন পোস্ট।

বিএনপি চেয়ার পারসনের মৃত্যুতে সংবাদমাধ্যমটি শিরোনাম করেছে, ‘বাংলাদেশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী, হাসিনার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী খালেদা জিয়া ৮০ বছর বয়সে মারা গেছেন’।

দুই নেত্রীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা কীভাবে বাংলাদেশে একটি প্রজন্মের রাজনীতির প্রেক্ষাপট তৈরি করে গেছে সেই চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস
‘বংশগত’ রাজনীতির প্রেক্ষাপটে খালেদা জিয়াকে উপস্থাপন করে নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে, তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। বংশগত বা পারিবারিকভাবে রাজনীতি চর্চা করে যাওয়া আরেক নারীর (শেখ হাসিনা) সঙ্গে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে গেছেন, যা তরুণ দক্ষিণ এশীয় দেশটির ভাগ্য বা ভবিষ্যৎ পথ নির্ধারণ করে দিয়েছে।

নিউ ইয়র্ক টাইমস শিরোনাম করেছে, ‘বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মারা গেছেন’।

ব্লুমবার্গ
বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথপরিক্রমার ভেতর দিয়ে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনকে উপস্থাপন করেছে নিউ ইয়র্ক ভিত্তিক ব্লুমবার্গ।

সংবাদমাধ্যমটি শিরোনাম করেছে, ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্রের কারিগর খালেদা জিয়া ৮০ বছর বয়সে মারা গেছেন’।

প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, কয়েক বছর চলা সামরিক শাসনের পর গণতন্ত্র ফেরাতে সাহায্য করেছিলেন তিনি। বাংলাদেশের কয়েক দশকের রাজনীতিতে তিনি প্রভাব বিস্তার করেছেন।

ডন
পাকিস্তানি শীর্ষ সংবাদমাধ্যম ডন লিখেছে, ‘বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘ অসুস্থতায় ভুগে ৮০ বছর বয়সে মারা গেছেন’।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দুর্নীতির অভিযোগে তার কারাবরণের ঘটনা তুলে ধরেছে সেখানে। সেইসঙ্গে ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানে হাসিনা সরকারের পতনের পর খালেদা জিয়ার মুক্তির কথাও লেখা হয়েছে।

টাইমস অব ইন্ডিয়া
খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর প্রতিবেশী ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলোও গুরুত্বের সঙ্গে ছেপেছে।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শোক ও শ্রদ্ধার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

সংবাদমাধ্যমটি শিরোনাম করেছে, ‘খালেদা জিয়া আর নেই: প্রধানমন্ত্রী মোদী গভীর শোক, ২০১৫ সালের সাক্ষাতের ছবি শেয়ার করেছেন’।

বাংলাদেশের উন্নয়নে এবং প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী করতে খালেদা জিয়ার ভূমিকা নিয়ে নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্যও তুলে ধরা হয়েছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এনডি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়