হামে একদিনে আরও ৫ মৃত্যু, আক্রান্ত ১১১৫
ছবি: সংগৃহীত
দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হাম এবং এর উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৩ জন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে এবং বাকি ২ জন মারা গেছে হামের উপসর্গ নিয়ে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, গত ১৬ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে ১৭ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে নতুন করে ১ হাজার ১১৫ জন হামের উপসর্গ নিয়ে শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় ১২৭ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে নিশ্চিত হওয়া তিন শিশুর দুজন বরিশাল বিভাগের বরগুনা জেলার এবং একজন ঢাকা বিভাগের। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত অপর দুই শিশুও ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা।
গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এ পর্যন্ত দেশে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মোট ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন আরও ১৭৪ জন। গত প্রায় এক মাসে দেশে মোট ২১ হাজার ৪৬৭ জন হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন, যার মধ্যে ৩ হাজার ১৯২ জনের ক্ষেত্রে সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেছে। আক্রান্তদের মধ্যে ১৩ হাজার ৮৯৮ জন দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১১ হাজার ২৪৩ জন।
আরও পড়ুন: হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু
বিভাগভিত্তিক সংক্রমণের চিত্রে দেখা গেছে, ঢাকা বিভাগ বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত এই বিভাগে মোট ৯ হাজার ২৭৪ জন হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন, যার মধ্যে নিশ্চিত রোগী ১ হাজার ৯৬৫ জন। সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ১ হাজার ১১৫ জনের মধ্যে ৫১৫ জনই ঢাকা বিভাগের। একই সময়ে এই বিভাগে সর্বোচ্চ ১২০ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। অন্যান্য বিভাগের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহীতে ৫ জন এবং বরিশাল ও খুলনায় ১ জন করে রোগী শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া একদিনে হাসপাতালে ভর্তির ক্ষেত্রেও ঢাকা বিভাগ শীর্ষে রয়েছে; যেখানে সারাদেশে নতুন করে ৭৬৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, তার মধ্যে ৩৫৭ জনই ঢাকার। অন্যদিকে, সবচেয়ে কম রোগী ভর্তি হয়েছে রংপুর বিভাগে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে এবং সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের মাধ্যমে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ চলছে। আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠ পর্যায়ে কাজ চলছে। একই সঙ্গে শিশুদের দ্রুত টিকাদান এবং যেকোনো উপসর্গে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার জন্য জনগণের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানানো হয়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








