হাম, পোলিও, যক্ষ্মাসহ ৬ ধরনের টিকার মজুত শেষ, ঝুঁকিতে শিশুরা
ছবি: সংগৃহীত
দেশে শিশুদের সুরক্ষায় ১২টি রোগ প্রতিরোধে প্রতি বছর নয় ধরনের টিকা দেয়া হয়। জন্মের পর থেকে ১৫ মাস বয়স পর্যন্ত এসব টিকা পায় শিশুরা। তবে এরই মধ্যে ৬ ধরনের টিকার মজুত শেষ হয়েছে বলে জানা গেছে। এসব টিকার মধ্যে হাম-রুবেলা, পোলিও, যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া, ডিপথেরিয়া-ধনুষ্টার, হেপাটাইসিস-বি রয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর ফলে মারাত্নক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে আছে শিশুরা।
এদিকে চলতি মাসে হামে দেশে ৫০ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি ও সরকারি হাসপাতাল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, টিকা কেনার ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দেওয়ায় মজুত শূন্যে নেমে এসেছে।
অন্যদিকে মাঠপর্যায়ে টিকার স্বল্পতা ও জনবলঘাটতির কারণে শিশু ও মায়েরা ঠিকমতো টিকা পাচ্ছে না। ফলে শিশুরা হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে। শিশুদের মধ্যে অন্য রোগও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
দেশে নিয়মিত টিকাদান এবং বিভিন্ন ধরনের টিকা কর্মসূচির কারণে পোলিও এবং ধনুষ্টংকার নির্মূলে সফল হয়েছে। হেপাটাইটিস নিয়ন্ত্রণে এসেছে। একইসঙ্গে হামও অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত ছিল এবং ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে হাম শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু গাফিলতির কারণে ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে একটি সফল কর্মসূচি।
মূলত, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর স্বাস্থ্য অধিদফতরের অপারেশনার প্ল্যান (ওপি) বাতিল হলে টিকা কার্যক্রম সংকটে পড়ে। ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় টিকা বঞ্চিত হয় অনেক শিশু।
আরও পড়ুন: দেশে ১.৯২ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি তেলের মজুদ, সংকট নেই: জ্বালানি বিভাগ
পরে সব ধরনের টিকার জন্য বিশেষ বরাদ্দ দেয়া। এরমধ্যে শুধু শিশুদের টিকার জন্য বরাদ্দ রাখা হয় ৮৪২ কোটি টাকা। একইসঙ্গে সরাসরি কেনার পাশাপাশি টেন্ডারেও টিকা কেনার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্ত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সেই প্রক্রিয়া শেষ করা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও টিকার বিষয়ে কোনো সুরাহা হয়নি।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান জানান, টিকাগুলো সরাসরি ইউনিসেফের কাছ থেকে কেনা হতো। পরে এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়ে অর্ধেক ইউইসেফের কাছ থেকে এবং অর্ধেক ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে কেনার সিদ্ধান্ত হয়। এর ফলে টিকা কেনার বিষয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে একটি জটিলতা তৈরি হয়।
তিনি আরও বলেন, সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং তা বাতিল হয়ে গেছে এর কোনও বিকল্প হাতে রাখা হয়নি। এর ফল আমরা ভোগ করছি। এখন পরিকল্পনা চলছে আবারও সরাসরি ক্রয় করতে পারি কী না। যদি হয় বাকি অর্ধেক টাকা আমরা সরাসরি ক্রয়ে ব্যয় করতে পারবো। এই ভ্যাকসিন মজুত থাকবে। যেখানে সংকট আছে সেখানে পাঠানো সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি।
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইপিআইয়ের মাধ্যমে দেশে ১২টি রোগ প্রতিরোধে ৯টি টিকা দেওয়া হয়। বিভিন্ন বয়সী শিশুদের দেওয়া হয় সাতটি টিকা। বিসিজি টিকা দেওয়া হয় যক্ষ্মা প্রতিরোধে; পেন্টা টিকা দেওয়া হয় ডিপথেরিয়া, পার্টুসিস, ধনুষ্টংকার, হেমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইপ–বি ও হেপাটাইটিস–বি প্রতিরোধে; ওপিভি টিকা দেওয়া হয় পোলিও প্রতিরোধে; আইপিভি দেওয়া হয় পোলিও প্রতিরোধে; নিউমোনিয়া প্রতিরোধে দেওয়া হয় পিসিভি টিকা; হাম ও রুবেলা রোগ প্রতিরোধে এমআর টিকা এবং টাইফয়েড প্রতিরোধে টিসিভি টিকা দেওয়া হয়।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এনডি








