News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৬:০৮, ৩১ মার্চ ২০২৬
আপডেট: ১৬:০৯, ৩১ মার্চ ২০২৬

মালয়েশিয়া থেকে ২৭ হাজার টন ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ‘পিভিটি সোলানা’

মালয়েশিয়া থেকে ২৭ হাজার টন ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ‘পিভিটি সোলানা’

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলেও বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রামে একের পর এক ভিড়ছে জ্বালানিবাহী জাহাজ। 

মালয়েশিয়া থেকে ২৭ হাজার ৩০০ টন পরিশোধিত ডিজেল নিয়ে ‘পিভিটি সোলানা’ নামের একটি ফুয়েল ট্যাংকার সোমবার (৩০ মার্চ) বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছায় এবং প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকালে পানামার পতাকাবাহী জাহাজটি বন্দরে নোঙর করে। পরে ডলফিন জেটিতে বার্থিংয়ের মাধ্যমে ডিজেল খালাসের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।

বিপিসি সূত্র জানায়, একই সময়ে ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড (এনআরএল) থেকে পাইপলাইনে ৮ হাজার টন ডিজেল ইতোমধ্যে দেশে এসেছে। এছাড়া ৩১ মার্চ আরেকটি ছোট চালান আসার কথা থাকলেও প্রক্রিয়াগত জটিলতায় তা কয়েকদিন পিছিয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, ৩ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত এলএনজি, এলপিজি, ক্রুড অয়েল, গ্যাস অয়েল ও বেস অয়েলসহ বিভিন্ন জ্বালানি নিয়ে মোট ৩০টির বেশি জাহাজ বন্দরে ভিড়েছে, যেগুলোর সবই খালাস শেষে ফিরে গেছে। এর আগে ২৬ মার্চ ৩১ হাজার টন ডিজেলবাহী একটি জাহাজ খালাস শেষে বন্দর ত্যাগ করে। একই দিনে ‘গ্রান কুভা’ নামের আরেকটি জাহাজ ১০ হাজার টন ডিজেল ও ২০ হাজার টন জেট ফুয়েল নিয়ে আসে এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে ৬১ হাজার ৯৯৭ টন এলএনজি নিয়ে ‘এইচএল পাফিন’ কুতুবদিয়া উপকূলে পৌঁছায়। পরদিন (২৭ মার্চ) ইন্দোনেশিয়া থেকে ‘নিউ ব্রেভ’ আসে এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে রওনা দেওয়া ‘সেলসিয়াস গ্যালাপাগোস’ নামের আরেকটি ট্যাংকার ৪ এপ্রিল নাগাদ বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

আরও পড়ুন: ভারত থেকে এলো আরও ৭ হাজার টন ডিজেল

বন্দর সূত্র আরও জানায়, আগামী ৪ এপ্রিলের মধ্যে আরও ছয়টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়বে। এসবের মধ্যে তিনটিতে এলএনজি, দুটিতে গ্যাস অয়েল এবং একটিতে এলপিজি থাকবে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহে জোর দেওয়া হয়েছে, যদিও দেশে এলএনজি আমদানির বড় অংশ এখনো কাতারনির্ভর।

তবে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার এসব উদ্যোগের পরও খুচরা পর্যায়ে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক নয়। চট্টগ্রামের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে, বিশেষ করে মোটরসাইকেলের চাপ বেশি। কোথাও কোথাও দিনের নির্দিষ্ট কয়েক ঘণ্টা জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিজেলের তেমন সংকট না থাকলেও অকটেনের ঘাটতি প্রকট। 

পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন চট্টগ্রাম বিভাগের সদস্যসচিব মোহাম্মদ মাইনুদ্দিন জানান, চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় অকটেন সরবরাহ চাপে পড়েছে।

এদিকে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে জ্বালানি বিক্রির অভিযোগও উঠেছে বিভিন্ন এলাকায়। রাউজানের পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজারে একটি দোকানে ১২০ টাকার অকটেন ১৫০ টাকায় বিক্রির অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন অভিযান চালিয়েছে। 

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৯৮টি অভিযান পরিচালনা করে ১৮ থেকে ২০টি মামলা দায়ের এবং প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। অবৈধ মজুত ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, দেশে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই এবং পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। সিঙ্গাপুর থেকেও প্রায় ৩০ হাজার টন ডিজেলবাহী একটি জাহাজ রওনা হয়েছে, যা শিগগিরই বন্দরে পৌঁছাবে। তিনি সাধারণ জনগণকে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহ না করার আহ্বান জানান এবং অতিরিক্ত মজুতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়