ইউরোপ যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে প্রাণ গেল ১৮ বাংলাদেশির
ছবি: সংগৃহীত
উত্তর আফ্রিকা থেকে ইউরোপ যাওয়ার পথে গ্রিসের উপকূলে একটি রাবারের নৌকায় অন্তত ২২ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৮ জনই বাংলাদেশি।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) গ্রিসের কোস্টগার্ডের বরাতে বার্তাসংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।
গ্রিক কোস্টগার্ড জানায়, ভূমধ্যসাগরের বৃহত্তম দ্বীপগুলোর একটি ক্রিটের কাছ থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত ও উপকূলীয় রক্ষা বাহিনী ফ্রন্টেক্সের একটি জাহাজ ২৬ জনকে উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে ২১ জন বাংলাদেশি, চারজন দক্ষিণ সুদানের নাগরিক এবং একজন চাদের নাগরিক রয়েছেন। এদের মধ্যে একজন নারী ও একটি শিশুও রয়েছে।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা জানান, যাত্রাপথে তাদের সঙ্গে থাকা ২২ জন মারা যান। পরে পাচারকারীদের নির্দেশে মরদেহগুলো সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়। নিহতদের মধ্যে ১৮ জনই বাংলাদেশি।
প্রাণ হারানো বাংলাদেশিদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন—সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার রনারচরের মুজিবুর রহমান (৪৫), একই উপজেলার তারাপাশা এলাকার মো. নুরুজ্জামান সর্দার ময়না (৩০) এবং মো. সাহান (২৫)।
কোস্টগার্ডের তথ্যমতে, নৌকাটি ২১ মার্চ পূর্ব লিবিয়ার তোবরুক বন্দর থেকে গ্রিসের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। ছয় দিন ধরে খাদ্য ও পানীয়ের অভাবে সমুদ্রে ভাসতে থাকায় যাত্রীরা দিকভ্রান্ত হয়ে পড়েন। প্রতিকূল আবহাওয়া, তীব্র খাদ্য ও পানির সংকট এবং চরম ক্লান্তির কারণে ২২ জনের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় দক্ষিণ সুদানের দুই সন্দেহভাজন পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছে গ্রিক কর্তৃপক্ষ। তাদের বয়স ১৯ ও ২২ বছর। অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অবহেলাজনিত হত্যার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, নৌকাটি ক্রিটের দক্ষিণাঞ্চলের ইয়েরাপেত্রা শহর থেকে প্রায় ৫৩ নটিক্যাল মাইল দূরে ছিল।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম দুই মাসেই ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে গিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে ভূমধ্যসাগরে ৫৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যেখানে গত বছর একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ২৮৭।
আরও পড়ুন: জ্বালানি মজুত ও চোরাচালান রোধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ
এদিকে, অভিবাসী প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সম্প্রতি অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা বাড়িয়েছে এবং ‘রিটার্ন হাব’ চালুর প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। তবে এ পদক্ষেপকে অমানবিক বলে সমালোচনা করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি








