‘মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তনের কোনো প্রয়োজন ছিল না’
ফাইল ছবি
পহেলা বৈশাখ উদ্যাপনের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’র নাম পরিবর্তন করে ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ করার কোনো প্রয়োজন ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি সরকারের এই অবস্থানের কথা জানান।
মন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, নাম নিয়ে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক অনর্থক এবং এটি জাতিকে বিভক্ত করার অপপ্রয়াস মাত্র। মঙ্গল শোভাযাত্রার পরিবর্তে আনন্দ শোভাযাত্রা নাম দেওয়া হয়েছে, আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ জানাই। তবে এটি দেওয়ার কোনো প্রয়োজন ছিল না।
পহেলা বৈশাখ উদযাপনের অন্যতম অনুষঙ্গ হিসেবে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত। ১৯৮৯ সালে যাত্রা শুরুর সময় এটি ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ নামে আয়োজন করা হয়েছিল। পরের বছর থেকে এটি মঙ্গল শোভাযাত্রা নামে পরিচিত হয় এবং ২০১৬ সালে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা অন পহেলা বৈশাখ’ শিরোনামে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পান। স্বীকৃতির পর শোভাযাত্রাটি নতুন মাত্রা লাভ করে।
গত বছরের ১১ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এক সংবাদ সম্মেলনে শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন করে ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’ করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছিল। এ সিদ্ধান্ত তখন সারাদেশে সমালোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল।
আরও পড়ুন: স্কুল সময়ে রাজধানীর যানজট নিরসনে বিকল্প খোঁজার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, যথাযথভাবে চিরায়ত ধারায় পহেলা বৈশাখ উদযাপন হবে। আনন্দ বা মঙ্গল যে নামই হোক, শোভাযাত্রার মূল চেতনাকে ধারণ করাই গুরুত্বপূর্ণ। এটি বিতর্ক দেশকে বিভক্ত করতে পারে এবং অনর্থক।
তিনি আরও যোগ করেন, ফ্যাসিবাদী চিন্তাচেতনা ও মৌলবাদী ধ্যানধারণার বিরুদ্ধে সরকার দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে।
মন্ত্রী তথ্য দেন, আসন্ন পহেলা বৈশাখ উদযাপনকে ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ, বাংলা একাডেমি, নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় শুরু হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে শোভাযাত্রা, আল্পনা, গান-বাজনা ও মেলার আয়োজন হবে। একই সঙ্গে অপসংস্কৃতি বা জীবনবিমুখ কার্যক্রম উদযাপনে কোনো স্থান পাবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নিতাই রায় চৌধুরী আরও বলেন, আমাদের সংস্কৃতি আমাদের মতো পালন করা হবে। হাজার হাজার বছর ধরে পহেলা বৈশাখ উদযাপিত হয়ে আসছে। বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য বজায় রেখে একটি একাত্ম বাংলাদেশ গড়ে তোলা আমাদের লক্ষ্য। বিএনপি সরকার সত্যকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় এবং হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করতে চাই।
মন্ত্রী এও মন্তব্য করেন, পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হলেও এর মূল শক্তি নাম নয়, বরং অংশগ্রহণ, চেতনা এবং সাংস্কৃতিক প্রকাশে নিহিত। আনন্দ এবং মঙ্গলের বিতর্ককে অনর্থক হিসেবে তিনি অভিহিত করেন।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








