নির্বাচিত সরকার না আসা পর্যন্ত নতুন শিক্ষাক্রম স্থগিত
ফাইল ছবি
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নতুন শিক্ষাক্রম প্রণয়নের কাজ আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, নির্বাচনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে নতুন করে কোনো বড় ধরনের কারিকুলাম তৈরির কাজ শুরু করাকে এই মুহূর্তে সমীচীন মনে করছে না জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।
মূলত নির্বাচিত নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তাদের নিজস্ব পরিকল্পনা ও দৃষ্টিভঙ্গির আলোকেই শিক্ষা কাঠামোর চূড়ান্ত সংস্কার করা হবে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্র জানায়, নির্বাচনের এই সময়ে নতুন করে কারিকুলাম তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ সমীচীন হবে না। প্রত্যেক নির্বাচিত সরকারেরই নিজস্ব শিক্ষা পরিকল্পনা ও দৃষ্টিভঙ্গি থাকায় নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের দায়িত্ব তারা নিজস্বভাবেই নিতে চায়।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রাথমিকভাবে ২০২৭ সাল থেকে প্রথম ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে পরিমার্জিত শিক্ষাক্রম চালুর পরিকল্পনা করেছিল। তবে শিক্ষাবিদরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, শিক্ষা কমিশন গঠন ও শিক্ষানীতি চূড়ান্ত না করা অবস্থায় নতুন কারিকুলাম প্রবর্তন করা হলে তা ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া, কারিকুলাম বাস্তবায়নের আগে পাইলটিং করা হবে কি না—সেটি নিয়েও এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
এনসিটিবি প্রধান সম্পাদক (অতিরিক্ত দায়িত্ব, কারিকুলাম) অধ্যাপক ফাতিহুল কাদীর সম্রাট জানান, জাতীয় নির্বাচনের পর নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করলে তারা শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার ও কাঠামো তাদের পরিকল্পনা ও দূরদৃষ্টির আলোকে সাজাবেন। তাই আপাতত নতুন শিক্ষাক্রম প্রণয়নের কাজ শুরু করা হয়নি। তবে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
আরও পড়ুন: ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার চূড়ান্ত কেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ
বর্তমানে এনসিটিবি কর্মকর্তারা পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ ও তদারকির কাজে ব্যস্ত। সূত্র জানায়, আগামী ২০ জানুয়ারির পর থেকে কারিকুলাম সম্পর্কিত কিছু প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু হতে পারে।
২০২২ সালে প্রণীত সর্বশেষ শিক্ষাক্রমও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাতিল করা হয়েছিল। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় এসে সেই শিক্ষাক্রম বাতিল করে ২০১২ সালের কারিকুলামে ফিরে যায়। পূর্ববর্তী পাঠ্যবইয়ের বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ বিষয়গুলো বাদ দিয়ে নতুনভাবে শিক্ষাক্রম পুনর্বিন্যাস করা হয়।
এর আগে, আওয়ামী লীগ সরকার দীর্ঘ দিন ক্ষমতায় থাকার সুবাদে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী বিতর্কিত শিক্ষাক্রম চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। ২০২১ সালের পর থেকে সরকারি চাপ এবং বিদেশি চক্রের প্রভাবের কারণে প্রাথমিক প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি এবং মাধ্যমিক ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণিতে বিতর্কিত বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পতিত আওয়ামী লীগ সরকার ও প্রধানমন্ত্রী দেশ ছাড়ার পর বিতর্কিত বিষয়গুলো বাতিল করা হয়। এ সময় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ২০১২ সালের কারিকুলামে ফিরে যায় এবং আগের বইয়ের বিভিন্ন প্রশ্নবিদ্ধ বিষয় বাদ দিয়ে পাঠ্যসূচি পুনর্বিন্যাস করে।
এনসিটিবি সূত্র আরও জানায়, নতুন কারিকুলাম প্রণয়নের কাজ আপাতত স্থগিত থাকলেও ফ্রেমওয়ার্ক ও প্রাথমিক প্রস্তুতিমূলক কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, নির্বাচন চলাকালীন সময়ে নতুন কারিকুলাম প্রবর্তন করলে সেটি রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ব্যর্থ হতে পারে।
বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষাক্রম পরিবর্তন করা হয়েছে। প্রতিটি সরকার তাদের দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যবহার করেছে। এর ফলে বহুমুখী দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে অনেক সময় ব্যর্থতা দেখা দিয়েছে।
ফাতিহুল কাদীর সম্রাট এ প্রসঙ্গে বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরই তারা দেশের শিক্ষা কাঠামোকে তাদের পরিকল্পনা ও লক্ষ্য অনুযায়ী সাজাবেন। আপাতত কারিকুলামের কাজ স্থগিত থাকলেও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং ২০ জানুয়ারির পর আরও কিছু কার্যক্রম শুরু হবে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








