রেকর্ড গড়ার পথে প্রবাসী আয়, প্রবৃদ্ধি ২২%
ফাইল ছবি
দেশের অর্থনীতিতে স্বস্তির সুবাতাস বইয়ে দিয়ে প্রবাসী আয়ে (রেমিট্যান্স) শক্তিশালী গতিধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই থেকে জানুয়ারি) দেশে ১৯ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই প্রবৃদ্ধি প্রায় ২১ দশমিক ৮০ শতাংশ। এছাড়া ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হিসাব ধরলে রেমিট্যান্স প্রবাহ ২২ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৯ হাজার ৬১৭ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান রবিবার (০১ ফেব্রুয়ারি) জানিয়েছেন, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সাত মাসে দেশে মোট ১ হাজার ৯৪৩ কোটি ৬০ লাখ (১৯.৪৩ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এক বছর আগে একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ১ হাজার ৫৯৬ কোটি ২০ লাখ ডলার। অর্থাৎ, বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৩৪৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার।
সদ্য সমাপ্ত ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসেই দেশে ৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা দেশের ইতিহাসে একক মাস হিসেবে তৃতীয় সর্বোচ্চ এবং চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড। গত বছরের জানুয়ারিতে এর পরিমাণ ছিল ২ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলার; ফলে কেবল জানুয়ারি মাসেই প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪৫ দশমিক ১০ শতাংশ।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের অন্যান্য মাসগুলোতেও রেমিট্যান্সের প্রবাহ ছিল ঊর্ধ্বমুখী। গত ডিসেম্বরে দেশে ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার রেমিট্যান্স আসে, যা দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এবং চলতি অর্থবছরের সর্বোচ্চ রেকর্ড। এছাড়া নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ, সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ এবং জুলাই মাসে ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। উল্লেখ্য, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে রেকর্ড ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল।
আরও পড়ুন: জানুয়ারিতে ইতিহাসের তৃতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এলো দেশে
বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রেমিট্যান্স প্রবাহে এক ধরনের বিশেষ উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। সাধারণত ধর্মীয় উৎসব ও নববর্ষের সময় প্রবাসী আয় বাড়ে, তবে এবার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এড়াতে প্রবাসীরা বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন। বিশেষ করে ডিসেম্বরের শেষ দিকে এবং জানুয়ারির শেষ তিন দিনে (২৯-৩১ জানুয়ারি) প্রতিদিন গড়ে ৭৬ মিলিয়ন ডলার করে রেমিট্যান্স আসা ব্যাংকিং খাতের ওপর আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া ২ ফেব্রুয়ারি প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির প্রথম দিনেই ১৮৪ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা গত বছরের একই দিনে ছিল মাত্র ১৯ মিলিয়ন ডলার।
রেমিট্যান্সের এই উল্লম্ফন দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের ভারসাম্য রক্ষা করছে। ডলারের বিনিময় হার তুলনামূলক বাস্তবসম্মত হওয়া, হুন্ডির বিরুদ্ধে কড়াকড়ি এবং সরকারের নগদ প্রণোদনা অব্যাহত থাকায় প্রবাসীরা বৈধ চ্যানেলে ঝুঁকেছেন। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমছে এবং ব্যাংকগুলোর আমদানি দায় মেটানো সহজ হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এই ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে প্রবাসী আয় নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজার এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








