বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সম্ভাবনা দেখছেন ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো
ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ অপেক্ষার পর বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এক বিশাল আশার বাণী শোনালেন বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।
ফিফা প্রধানের মতে, নিকট ভবিষ্যতেই ফিফা বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে দেখা যেতে পারে লাল-সবুজের বাংলাদেশকে। ফুটবলবিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই আসরে নতুন দেশগুলোকে সুযোগ করে দেওয়ার যে লক্ষ্য নিয়ে ফিফা কাজ করছে, সেই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের সম্ভাবনাকে অত্যন্ত উজ্জ্বল হিসেবে দেখছেন তিনি।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘আস্ক মি’ শীর্ষক এক বিশেষ প্রশ্নোত্তর পর্বে এক অনুসারীর প্রশ্নের জবাবে ইনফান্তিনো এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি জানান, এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি দেশ প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। আফ্রিকা অঞ্চল থেকে কেপ ভার্দে, কনক্যাকাফ অঞ্চল থেকে কুরাসাও এবং এশিয়া অঞ্চল থেকে উজবেকিস্তান ও জর্ডানের কথা উল্লেখ করেন ফিফা সভাপতি।
বাংলাদেশকে নিয়ে আশাবাদের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ফুটবলের দারুণ এক দেশ। এখানে ফুটবলের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। বাংলাদেশে ফুটবলের উন্নয়নে ফিফা বিনিয়োগ করছে। এখানে প্রতিভার কোনো ঘাটতি নেই এবং আমরা ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে দেখার অপেক্ষায় আছি।
আগামী জুনে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে প্রথমবারের মতো ৪৮ দল নিয়ে শুরু হচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপের উত্তেজনা শুরু হওয়ার আগেই দেশের ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে বিশ্বকাপ ট্রফির বাংলাদেশ সফর। তবে বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশ এখনও বিশ্বকাপ তো দূরের কথা, এশিয়ান কাপেও খুব বেশি সাফল্য দেখাতে পারেনি। তারপরও ফিফা সভাপতির এমন মন্তব্য নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে ফুটবলপ্রেমীদের।
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের ফুটবল ফর্মে তেমন কোনো বড় সাফল্য নেই। মাঝেমধ্যে পারফরম্যান্সে কিছু ঝলকানি থাকলেও দীর্ঘ সময় ধরে বড় কোনো অর্জন দেখা যায়নি। দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলেও বাংলাদেশ প্রথম ও শেষবার সেরার স্বীকৃতি পেয়েছিল ২০০৩ সালে। ফিফা র্যাঙ্কিংয়েও অবস্থান একেবারে শেষ দিকে। তবুও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর কথায় আশাবাদী হতে পারেন বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরা।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের ১৮০তম দল বাংলাদেশ কি কখনও বিশ্বকাপে খেলবে—সোহাগ নামে একজন ফুটবল সমর্থকের প্রশ্নের উত্তরে ইনফান্তিনো বলেন, অবশ্যই ফিফা বিশ্বকাপে খেলতে পারবে। ফিফার লক্ষ্যও তাই, বাংলাদেশ ও অন্যান্য দেশকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ দেওয়া। আগামী বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে আমরা কিছু দল পেয়েছি, যারা আগে কখনও বিশ্বকাপে খেলেনি।
আরও পড়ুন: বিশ্বকাপ ট্রফি দেখতে দেশের পতাকা সঙ্গে না রাখার নির্দেশ
তিনি বলেন, আমরা আফ্রিকা থেকে কেপ ভার্দে, কনক্যাকাফ থেকে কুরাসাওকে পেয়েছি। অন্যরাও আছে; উজবেকিস্তান প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে উঠেছে, জর্ডানও প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলবে। তাই, বাংলাদেশের মতো দারুণ এক ফুটবল জাতি, যেখানে ফুটবল ক্রমেই বেড়ে উঠছে, অবশ্যই তাদের (বিশ্বকাপে খেলার) সুযোগ আছে।
বাংলাদেশের ফুটবল দল গত বছরে জামাল-তপুরা, হামজা-শমিতের মতো নতুন প্রবাসী খেলোয়াড়দের নিয়ে উন্নতির আভাস দেখিয়েছে। ইনফান্তিনোর বিশ্বাস, দলটির উন্নতির ধারা অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, আমরা ফিফার পক্ষ থেকে, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) মাধ্যমে বাংলাদেশে অনেক বিনিয়োগ করছি, সেখানে ফুটবলে দারুণ সব মেধাও বেড়ে উঠছে। বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বেই দারুণ সব মেধাবী খেলোয়াড় আছে। বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে দেখার অপেক্ষায় আছি আমরা, আশা করি নিকট ভবিষ্যতেই।
গত বছর বিশ্বকাপ ট্রফি বাংলাদেশ সফর করলে জাতীয় দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া প্রথমবারের মতো সেটি কাছ থেকে দেখার সুযোগ পান। সে সময় তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্ম হয়ত বিশ্বকাপে খেলতে পারবে না, তবে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের কোনো দল বিশ্বকাপের মঞ্চে উঠবে—এই আশাই তাকে অনুপ্রাণিত করে। এবার সেই আশার পালে হাওয়া দিলেন ফিফা সভাপতি নিজে।
ফিফা সভাপতির বক্তব্যের পক্ষে উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি দেশ প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। আফ্রিকা অঞ্চল থেকে কেপ ভার্দে, কনক্যাকাফ অঞ্চল থেকে কুরাসাও, এশিয়া থেকে উজবেকিস্তান ও জর্ডান—এরা সবাই নতুন মুখ হিসেবে বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে। বাংলাদেশকে নিয়ে কেন তিনি আশাবাদী, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন ইনফান্তিনো।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি ফুটবলপ্রিয় দেশ এবং এখানে ফুটবলের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। ফিফা বাংলাদেশে ফুটবল ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করছে। তার মতে, বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রচুর প্রতিভা রয়েছে এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখার অপেক্ষায় রয়েছে ফিফা।
তবে ইনফান্তিনোর এই আশাবাদ কতটা বাস্তবে রূপ নেবে, তা সময়ই বলে দেবে। বাস্তব চিত্র বলছে, বিশ্বকাপ তো দূরের কথা—বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত এশিয়ার সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতায় খেলেছে মাত্র একবার, সেটিও ১৯৮০ সালে। হামজা চৌধুরী ও শমিত সোমের মতো প্রবাসী ফুটবলারদের অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এবার এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে পারেনি লাল-সবুজের দল। তবুও আশায় বাঁচে মানুষ—হয়ত একদিন সত্যিই বিশ্বকাপের মঞ্চে উড়বে বাংলাদেশের পতাকা।
ফিফা প্রেসিডেন্টের চোখে বাংলাদেশ শুধু বিশ্বকাপ খেলতেই পারে না; ফিফার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যই হলো—বাংলাদেশের মতো যেসব দেশ এখনো বিশ্বকাপে খেলেনি, তাদের সেই মঞ্চে নিয়ে আসা।
ইনফান্তিনো বলেন, বিশ্বের সর্বত্রই প্রতিভা রয়েছে, বাংলাদেশেও রয়েছে। প্রয়োজন শুধু সঠিক সুযোগ, কাঠামো ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।
সবশেষে তিনি আশার বার্তা দিয়ে বলেন, আমরা সত্যিই আশা করি, খুব শিগগীরই বাংলাদেশকে ফিফা বিশ্বকাপে খেলতে দেখতে পাব।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








