যুব উন্নয়নের প্রশ্নফাঁসে বিএআরসির সহকারী পরিচালক গ্রেফতার
ছবি: সংগৃহীত
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় করা মামলায় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) সহকারী পরিচালক সোহাগ ফকিরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দিবাগত রাতে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার বদরপাশা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে দুটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সিআইডির পক্ষ থেকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তে সোহাগ ফকিরের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার পর তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে রাজৈর থানা পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর তাকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
এর আগে একই নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় পাঁচ সরকারি কর্মচারীসহ সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের কাছ থেকে প্রশ্নপত্র, বিভিন্ন পরীক্ষার প্রবেশপত্র, শিক্ষাগত সনদ, ব্যাংকের চেক, স্ট্যাম্প, জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছিল। নতুন করে সোহাগ ফকিরের গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে মামলাটির তদন্তে আরও অগ্রগতি হলো। তবে প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে তার সুনির্দিষ্ট ভূমিকা কী ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।
আরও পড়ুন: যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশ্নফাঁসে সরকারি ৫ কর্মচারীসহ গ্রেফতার ৭
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে ২৪২টি শূন্যপদে নিয়োগের জন্য গত ১০ অক্টোবর বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এ পরীক্ষায় অংশ নিতে আবেদন করেছিলেন ৩ লাখ ১৯ হাজার চাকরিপ্রার্থী। তবে পরীক্ষা শুরুর আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা স্থগিত করে। এ ঘটনায় পরদিন, ১১ অক্টোবর, রাজধানীর মতিঝিল থানায় মামলা করা হয়।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ক্ষোভ প্রকাশ করেন পরীক্ষায় অংশ নিতে প্রস্তুতি নেওয়া চাকরিপ্রার্থীরা। তারা রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সড়কে নেমে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অবস্থান নিয়ে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলও ব্যাহত করেন তারা। পরে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয়। ঘটনার পর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
দীর্ঘ প্রস্তুতি ও প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে সরকারি চাকরির পরীক্ষায় অংশ নেওয়া বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর কাছে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সিআইডির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের উৎস শনাক্ত করা, এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের চিহ্নিত করা এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদ্ঘাটন এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








