দুর্গোৎসব সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় করবে: ভারতীয় হাইকমিশনার
ছবি: সংগৃহীত
সৌহার্দ্য, সাম্য ও উৎসবমুখর আবহাওয়ার মধ্য দিয়ে সারাদেশে উদযাপিত হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের মহা-নবমী।
মহা-নবমীর আনন্দ ভাগাভাগি করতে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর উত্তরার সার্বজনীন পূজা কমিটির দুর্গোৎসব মণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।
মণ্ডপ পরিদর্শনকালে ভারতীয় হাইকমিশনার পূজা মণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা ও উদযাপনের পরিবেশে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন।
উপস্থিত পুণ্যার্থী ও সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এখানে কোনো হাইকমিশনার হিসেবে নয়, সনাতন পরিবারের একজন সদস্য হিসেবেই উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করতে এসেছি। এবারের শারদীয় দুর্গাপূজা অত্যন্ত বর্ণিল ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দুর্গাপূজার এই আনন্দ ও সৌহার্দ্য আমাদের পারস্পরিক সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে। একটি অসাম্প্রদায়িক ও সুন্দর সমাজ গড়তে সবার মধ্যে পারস্পরিক সহাবস্থান ও মেলবন্ধন অত্যন্ত জরুরি।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, উৎসবমুখর এই আবহ বজায় রেখেই বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।
এদিকে, দিনভর নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, ভক্তি ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে দুর্গাপূজার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ মহা-নবমী।
আরও পড়ুন: সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী
সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, নবমীর এই তিথিতে দেবী দুর্গা মহিষাসুর বধ করে স্বর্গ ও মর্ত্যকে অন্যায়ের হাত থেকে মুক্ত করেছিলেন এবং একই তিথিতে শ্রী রামচন্দ্র রাবণ বধ করেছিলেন। ফলে নবমী তিথিকে দুর্গাপূজার চূড়ান্ত বিজয়ের প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হয়।
সনাতন শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এ বছর ভক্তদের কষ্ট হরণের উদ্দেশ্যে দেবী দুর্গার আগমন ঘটেছিল ঘোটকে (ঘোড়ায়) চড়ে এবং বুধবার বিজয়া দশমীতে তিনি কৈলাশে ফিরে যাবেন নৌকায় চড়ে।
উৎসবের চতুর্থ দিনে নবমীর সূচনালগ্নেই মণ্ডপে মণ্ডপে শুরু হয় বিহিতপূজা। পুরোহিতদের সুমধুর মন্ত্রোচ্চারণ, চণ্ডীপাঠ, ধূপের সুবাস এবং ঢাক-ঢোল ও কাঁসরের বাদ্যে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো মণ্ডপ প্রাঙ্গণ। সকালে বিশেষ তর্পণের মাধ্যমে দেবীর মহাস্নান সম্পন্ন করার পর ষোড়শ উপচারে চলে মূল পূজা ও মহাআরতি। সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্তরা দেবীর চরণতলে ১০৮টি মাটির প্রদীপ প্রজ্বলন করেন এবং বেল পাতা, আম কাঠ ও ঘি সহযোগে হোমযজ্ঞে আহুতি দিয়ে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় অঞ্জলি প্রদান করেন।
পৌরাণিক মতে, এই নবমী তিথিতেই ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিবসহ সকল দেব-দেবীর সম্মিলিত তেজ ও শক্তিতে দেবী দুর্গা অষ্টভুজ রূপ ধারণ করেন এবং সিংহবাহিনী হয়ে মহিষাসুরমর্দিনী রূপে পূজা পান। সন্ধ্যায় মণ্ডপে মণ্ডপে আবারও অনুষ্ঠিত হয় দেবীর সমাপনী মহাআরতি। শারদীয় দুর্গোৎসবের এই আনন্দে একদিকে যেমন ছিল উদ্ভাসিত উল্লাস, অন্যদিকে ছিল দেবীর আসন্ন বিদায়ের বিষাদ ছুঁয়ে যাওয়া অনুভূতি। আগামীকাল বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়েই সমাপ্তি ঘটবে পাঁচ দিনব্যাপী এই বর্ণাঢ্য শারদীয় উৎসবের।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








