নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২০:০৭, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

৩ ব্যাংকের এমডির চুক্তি বাতিল

৩ ব্যাংকের এমডির চুক্তি বাতিল

ফাইল ছবি

রাষ্ট্রায়ত্ত তিন বাণিজ্যিক ব্যাংক সোনালী, জনতা ও রূপালীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে সরকার। এ সিদ্ধান্তের আওতায় রয়েছেন সোনালী ব্যাংকের মো. শওকত আলী খান, জনতা ব্যাংকের মো. মজিবর রহমান এবং রূপালী ব্যাংকের কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলাম। 

সোমবার (১৯ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদকে প্রচলিত আইন ও চুক্তির শর্ত অনুযায়ী পরবর্তী বিধিগত কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তিন ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের বিষয়ে সরকারের সুপারিশ বা সম্মতি জানানো হয়েছে। তবে সরকারের এ সম্মতি এবং নিয়োগ বাতিলের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া এক বিষয় নয়। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদকে ব্যাংক কোম্পানি আইন ও তাদের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিপত্রের শর্ত অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রজ্ঞাপনে চুক্তির অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হলেও এ সিদ্ধান্তের কারণ কিংবা কার্যক্রম সম্পন্নের নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি।

তিন ব্যাংকের এমডিদের নিয়োগের সময়কাল পর্যালোচনায় দেখা যায়, তাদের প্রত্যেককেই তিন বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। মো. শওকত আলী খান ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর সোনালী ব্যাংকের এমডি ও সিইও হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মো. মজিবর রহমান একই বছরের ৭ নভেম্বর জনতা ব্যাংকের এমডি হিসেবে যোগ দেন। 

অন্যদিকে, কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলাম ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর রূপালী ব্যাংকের এমডি হিসেবে দায়িত্ব নেন; এর আগে ১২ ডিসেম্বর তাকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। 

নির্ধারিত মেয়াদ অনুযায়ী, তিনজনেরই চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে এখনো প্রায় এক বছর বাকি রয়েছে। ফলে সরকারের সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে রাষ্ট্রায়ত্ত এই তিন ব্যাংকের শীর্ষ ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের পথ তৈরি হবে।

আরও পড়ুন: মঙ্গলবার থেকে টানা ৫ দিন বন্ধ থাকবে ব্যাংক ও শেয়ারবাজার

তিন কর্মকর্তারই ব্যাংকিং ক্যারিয়ারের সূচনা ১৯৯৮ সালে রূপালী ব্যাংকে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে। দীর্ঘ কর্মজীবনে তারা বিভিন্ন শাখা, আঞ্চলিক ও জোনাল কার্যালয়, বিভাগ এবং প্রধান কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। মো. শওকত আলী খান সোনালী ব্যাংকের দায়িত্ব গ্রহণের আগে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং রূপালী ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে কাজ করেন। ব্যাংকিং কার্যক্রমের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানবসম্পদ, শিল্পঋণ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, ট্রেজারি, আইন, কৃষি ও ক্ষুদ্রঋণ এবং আন্তর্জাতিক বিভাগে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। তিনি রূপালী ব্যাংকে প্রধান ঝুঁকি কর্মকর্তা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন তিনি।

জনতা ব্যাংকের এমডি মো. মজিবর রহমান এর আগে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সোনালী ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ব্যাংকিং পেশায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় তিনি বিভিন্ন শাখার ব্যবস্থাপক, জোনাল প্রধান, বিভাগীয় প্রধান ও প্রধান কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করেছেন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃষি অর্থনীতিতে স্নাতক (সম্মান) এবং কৃষি উৎপাদন অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। পাশাপাশি ইনস্টিটিউট অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের ফেলো ও ডিস্টিংগুইশড ফেলো হিসেবে পরিচিতি রয়েছে তাঁর।

অন্যদিকে, রূপালী ব্যাংকের এমডি কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলাম এর আগে সোনালী ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন শাখার ব্যবস্থাপক, জোনাল প্রধান ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কাজ করেছেন। রূপালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে বৈদেশিক বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক বিভাগ, ট্রেজারি, নিরীক্ষা ও পরিদর্শনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। সোনালী ব্যাংকে দায়িত্ব পালনকালে মানবসম্পদ উন্নয়ন ও অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বৈদেশিক মুদ্রা, বৈদেশিক বাণিজ্য অর্থায়ন, শিল্পঋণ, ক্ষুদ্রঋণ, ব্যবসা উন্নয়ন ও ঋণ আদায় কার্যক্রমেও তার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি থেকে স্নাতক এবং একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। এ ছাড়া ব্যবসায় প্রশাসনেও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি রয়েছে তার।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর আর্থিক ব্যবস্থাপনা, খেলাপি ঋণ আদায়, মূলধন পর্যাপ্ততা, তারল্য ব্যবস্থাপনা ও সুশাসন নিয়ে নানা চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে শীর্ষ নির্বাহীদের নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে সরকারের প্রজ্ঞাপনে নির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ না থাকায় সিদ্ধান্তটিকে ব্যাংকগুলোর আর্থিক পরিস্থিতি বা ব্যবস্থাপনার কোনো নির্দিষ্ট ব্যর্থতার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করার সুযোগ নেই। এখন সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ আইন ও চুক্তির শর্ত অনুযায়ী কী পদক্ষেপ নেয়, তার ওপরই তিন এমডির নিয়োগ বাতিলের প্রক্রিয়ার পরবর্তী অগ্রগতি নির্ভর করছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়