আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৪:৪২, ২০ অক্টোবর ২০২৬

ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে রাতের কারফিউ

ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে রাতের কারফিউ

ছবি: সংগৃহীত

ফ্রান্সে বিক্ষোভ, দাঙ্গা ও লুটপাটের ঘটনার পর রাজধানী প্যারিসসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে রাতের কারফিউ জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসনকে কারফিউ জারির ক্ষমতা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু। সপ্তাহান্তে বিক্ষোভ ও সহিংসতায় প্রায় দুই হাজার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

রাজধানী প্যারিসের মধ্যাঞ্চলে সোমবার (২০ অক্টোবর) রাত ১১টা থেকে মঙ্গলবার ভোর ৬টা পর্যন্ত মানুষের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নিসে বিশেষ করে তরুণদের জন্য কারফিউ জারি করা হয়েছে। এ ছাড়া লিওঁ ও লিলসহ আরও কয়েকটি শহরের নির্দিষ্ট এলাকায় রাতের কারফিউ আরোপ করা হয়েছে।

সোমবার প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে কারফিউ জারির ক্ষমতা দেওয়ার পর বিভিন্ন শহরে বিধিনিষেধ কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তিনি বলেন, দাঙ্গাবাজ, চোর ও দুর্বৃত্তদের দ্বারা আমরা পরিচালিত হব না।

গত মাসে স্কুলের পরিবেশ ও পরিস্থিতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে আন্দোলনের সূচনা হয়। পরে তা বিভিন্ন ইস্যুতে বিস্তৃত হয়ে বড় আকার ধারণ করে। শনিবার দেশজুড়ে পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। রবিবার শুধু প্যারিসেই তিন শতাধিক মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় অন্তত পাঁচটি দোকানে লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

শনিবার (১৮ অক্টোবর) প্যারিস, বোর্দো, নিস ও মার্সেইসহ বিভিন্ন শহরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। মুখোশধারীরা দোকানের কাচ ভেঙে মালামাল লুট করে, রাস্তায় ব্যারিকেড দেয় এবং বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন ধরিয়ে দেয়। রবিবার প্যারিসের প্লাস দ্য লা রিপাবলিক চত্বরেও পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও স্টান গ্রেনেড ব্যবহার করে।

প্রধানমন্ত্রী লেকর্নুর অভিযোগ, চরম বামপন্থী উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলো ২০২৭ সালের ফরাসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে আন্দোলনকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে।

এদিকে, বিক্ষোভের সময় লুট হওয়া পণ্য অনলাইনে বিক্রি বন্ধ করতে বিভিন্ন বিক্রয় প্ল্যাটফর্মকে নির্দেশ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সরকারি কর্মকর্তারা।

সহিংসতার পর ক্ষয়ক্ষতির হিসাব, পুলিশের ভূমিকা ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে আলোচনা চলছে। এ পরিস্থিতিতে ফ্রান্সে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস দেশটিতে থাকা মার্কিন নাগরিকদের জন্য নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে। বড় জমায়েতের কাছাকাছি সতর্ক থাকা এবং বিক্ষোভকবলিত এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কারফিউ-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ মেনে চলা, ফ্লাইটের সময়সূচি যাচাই এবং যাতায়াতের জন্য অতিরিক্ত সময় হাতে রাখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: হুতিদের হামলার মুখে সৌদির বিনিয়োগ সম্মেলন স্থগিত

এর আগে চীন ও জার্মানিও ফ্রান্সে অবস্থানরত তাদের নাগরিকদের জন্য একই ধরনের নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়