৯৯ বারের মতো পিছাল রিজার্ভ চুরি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন
ফাইল ছবি
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় আবারও পিছিয়েছে। দীর্ঘ প্রায় এক দশকেও তদন্ত শেষ না হওয়ায় এ নিয়ে ৯৯ বারের মতো পেছাল প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য থাকলেও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তা জমা দিতে পারেনি। পরে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত আগামী ২৫ নভেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক রোকনুজ্জামান তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পেছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বহুল আলোচিত এ মামলায় বারবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় নির্ধারণ করা হলেও তা দাখিল না হওয়ায় তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। দেশের আর্থিক খাতের অন্যতম বড় সাইবার অপরাধ ও অর্থ পাচারের এ ঘটনায় দীর্ঘ সময়েও তদন্ত প্রতিবেদন জমা না পড়া বিচারিক প্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
আরও পড়ুন: মঙ্গলবার থেকে টানা ৫ দিন বন্ধ থাকবে ব্যাংক ও শেয়ারবাজার
২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে সংরক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে হ্যাকাররা ৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার চুরি করে নেয়। আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে সংঘটিত এ ঘটনা বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের নিরাপত্তা ও অর্থ পাচার প্রতিরোধব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে। ওই অর্থ চুরির ঘটনায় দেশের ভেতরে থাকা কোনো চক্রের সহায়তা ছিল কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করা হয়। তবে এ বিষয়ে তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল এখনো প্রকাশিত হয়নি।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগের উপপরিচালক জোবায়ের বিন হুদা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মতিঝিল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। পরদিন, ১৬ মার্চ আদালত মামলাটির তদন্তভার পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) দেন। এরপর থেকে সংস্থাটি মামলাটির তদন্ত করে আসছে।
কিন্তু মামলার প্রায় এক দশক পেরিয়ে গেলেও তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায় রিজার্ভ চুরির ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দায়ীদের বিচারের অগ্রগতি নিয়ে অপেক্ষা দীর্ঘ হচ্ছে। সর্বশেষ আদালতের নির্ধারিত ২৫ নভেম্বরের তারিখে সিআইডি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারে কি না, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








