নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২১:১২, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

ধর্মের ঊর্ধ্বে সবার পরিচয় বাংলাদেশি: প্রধানমন্ত্রী

ধর্মের ঊর্ধ্বে সবার পরিচয় বাংলাদেশি: প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

সব ধর্মের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে নাগরিক হিসেবে নিজেদের অধিকার ও দায়িত্ব উপলব্ধি করে দেশ গঠনে একসঙ্গে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি। 

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ধর্ম আলাদা হতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্র সবার। প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার যেমন রয়েছে, তেমনি প্রত্যেকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনকালে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি দেশের সব সনাতন ধর্মাবলম্বীকে দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানান এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি, সহযোগিতা ও ঐক্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশকে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দেশ আপনার, এই দেশ আমার। আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশটিকে গড়ি। 

ধর্মীয় পরিচয়ের ভিন্নতা যেন নাগরিকদের মধ্যে বিভেদ তৈরি না করে, সে বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, হতেই পারে আমার একটি ধর্ম, আপনার একটি ধর্ম। কিন্তু রাষ্ট্রটা আমাদের সবার। বাংলাদেশ নামক যে রাষ্ট্র, এই রাষ্ট্রটি আমাদের সবার। এই দেশটিতে আপনার যেমন অধিকার আছে, আমারও অধিকার আছে। এই দেশের প্রতি আপনার যেমন কর্তব্য আছে, আমারও এই দেশের প্রতি কর্তব্য আছে।

রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও নাগরিকদের পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক ব্যাখ্যা করে তারেক রহমান বলেন, প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। একজন নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অন্য নাগরিকের নিরাপত্তাও সমানভাবে নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নাগরিকদেরও পরস্পরের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং সম্মিলিতভাবে দেশের অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখতে হবে। 

তার ভাষ্য, রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে আপনাকে নিরাপত্তা দেওয়া, ঠিক একইভাবে এই রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে আমাকেও নিরাপত্তা দেওয়া। আমাদের সবার দায়িত্ব হচ্ছে আমরা একে অপরকে দেখে রাখব। আমরা একে অপরের সঙ্গে কাজ করে এ দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাব।

জাতীয় পরিচয় ও মানবিক মর্যাদার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্মীয় পরিচয়ের আগে প্রত্যেকের পরিচয় মানুষ হিসেবে; রাষ্ট্রীয় পরিচয়ে সবাই বাংলাদেশি। 

তিনি বলেন, আমরা সবাই এই দেশের সন্তান, এই দেশের মানুষ, বাংলাদেশি। আমরা প্রত্যেকে মানুষ। এটি হচ্ছে আমাদের সবচেয়ে আগের পরিচয়। এখানে উপস্থিত আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশি। দেশের নাগরিকদের মধ্যে ধর্মীয় ভিন্নতা থাকলেও রাষ্ট্রের প্রতি অধিকার ও দায়িত্বের প্রশ্নে সেই ভিন্নতা কোনো বৈষম্যের কারণ হতে পারে না এমন বার্তাই তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।

আরও পড়ুন: জুলাইয়ের শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি না করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার জন্য এ দেশের মানুষ যখন যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, তখন কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিষ্টান তা বিবেচনা করে কেউ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেননি। স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল। পরবর্তী সময়ে গণতন্ত্র, রাজনৈতিক অধিকার ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য হয়ে ওঠেনি বলে উল্লেখ করেন তিনি। 

তার মতে, মানুষের কথা বলার অধিকার ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ একসঙ্গে রাজপথে নেমেছেন; পরস্পরের ধর্মীয় পরিচয় জানতে চাওয়ার পরিবর্তে তারা অভিন্ন অধিকার আদায়ের জন্য সোচ্চার হয়েছেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই সময়ও হাজার হাজার, লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। আন্দোলনে অংশ নেওয়া মানুষদের মধ্যে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বিভাজন ছিল না। 

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সব ধর্মের মানুষ অংশ নিয়েছেন এবং শহীদদের মধ্যেও বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী রয়েছেন। 

সোমবার রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সেখানে স্মরণ করা শহীদদের মধ্যে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সব ধর্মের মানুষ রয়েছেন। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁদের আত্মত্যাগকে সম্মিলিত সংগ্রামের অংশ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।

দেশের উন্নয়ন ও পরিবর্তনের সুফল সব নাগরিকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, দেশের পরিবর্তন হলে সব মানুষই তার সুফল পাবেন। বিপদ কিংবা দুর্দশার সময় মানুষকে ধর্মের পরিচয়ে আলাদা করে দেখা হয় না; একইভাবে ভালো থাকার ক্ষেত্রেও মানুষের পরিচয় সবার আগে মানুষ হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। 

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই দেশটির যদি পরিবর্তন ঘটে, এ দেশের মানুষের যদি পরিবর্তন ঘটে, তাহলে আপনি যেমন উপকৃত হবেন, আমিও উপকৃত হব। ধর্মীয় বিভেদ ভুলে পরস্পরকে দেশের নাগরিক ও বাংলাদেশি হিসেবে জানার এবং সম্মান করার আহ্বান জানান তিনি।

শারদীয় দুর্গাপূজাকে আনন্দ ও মিলনের উপলক্ষ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে এই অনুষ্ঠানটি হচ্ছে একটি আনন্দের অনুষ্ঠান। আজকে এই অনুষ্ঠানটি হচ্ছে একটি মিলনমেলা। ঢাকেশ্বরী মন্দিরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির নেতারা সনাতন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনও বক্তব্য দেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়