নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২১:৪১, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

প্রবারণা পূর্ণিমায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তার আশ্বাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

প্রবারণা পূর্ণিমায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তার আশ্বাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত

প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দান উৎসব ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। 

তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, দেশের সব ধর্মের মানুষের নিজ নিজ উৎসব নিরাপদে উদযাপনের পরিবেশ তৈরি করা সরকারের অন্যতম প্রধান সাংবিধানিক দায়িত্ব।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। আগামী ২৫ অক্টোবর পবিত্র প্রবারণা পূর্ণিমা এবং এরপর থেকে মাসব্যাপী ঐতিহ্যবাহী কঠিন চীবর দান উৎসব অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদের উদ্ধৃতি দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে ধর্মের ভিত্তিতে কোনো ধরনের বৈষম্যের সুযোগ নেই। রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের স্বাধীনভাবে ও নিরাপদে নিজ নিজ ধর্মীয় আচার ও উপাসনা পালনের অধিকার রয়েছে। সরকার সেই সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল থেকে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও সম্প্রীতি রক্ষায় সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

আসন্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, পার্বত্য তিন জেলা খাগড়াছড়ি, রাঙামটি ও বান্দরবান এবং সমতলের পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও রংপুর অঞ্চলে ফানুস ওড়ানো এবং অন্যান্য আচার-অনুষ্ঠানের সময় যেন কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: জুলাই সনদে সহযোগিতা করছে না বিরোধী দল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চলমান দুর্গাপূজার নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী জানান, মণ্ডপগুলোর সুরক্ষায় সিসিটিভি ও বডি ওর্ন ক্যামেরার পাশাপাশি অ্যাপভিত্তিক নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের বিশেষ মনিটরিং সেলের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করা হবে এবং অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অসত্য তথ্য ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা চলছে বলে সতর্ক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। 

তিনি উল্লেখ করেন, অনেক সময় ব্যক্তিগত বিরোধ, জমিজমাসংক্রান্ত জটিলতা কিংবা কমিটি গঠন নিয়ে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ধর্মীয় সংঘাত হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চালানো হয়। এসব গুজব ও অপপ্রচার কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। চলমান দুর্গোৎসবের মতো প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দান উৎসবও শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সভায় উপস্থিত বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতারা প্রবারণা পূর্ণিমার আধ্যাত্মিক তাৎপর্য, সংযম, মন ও চেতনার শুদ্ধি এবং কঠিন চীবর দানের পবিত্রতা তুলে ধরেন। এ সময় নেতারা দেশব্যাপী বৌদ্ধ বিহারগুলোর একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়ার কথা জানান। 

মন্ত্রী জানান, তালিকা হাতে পাওয়ার পরপরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

মতবিনিময় সভায় আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ধর্মমিত্র মহাথের, বোধিজ্ঞান ভাবনা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ আসিন জিন রক্ষিত মহাথের, উত্তরা মহাবিহারের অধ্যক্ষ মুদিতাপাল ভিক্ষু এবং ধর্মরাজিক মহাবিহারের উপাধ্যক্ষ স্বরূপানন্দ ভিক্ষুসহ দেশের বিশিষ্ট বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়