হাম-ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৯ জনের মৃত্যু
ফাইল ছবি
দেশে হাম ও ডেঙ্গুর সংক্রমণ এবং প্রাণহানির উদ্বেগজনক পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে পাঁচ শিশু এবং ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৩৪২ জন। অন্যদিকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৮৫১ জন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত পৃথক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২০১ জনে। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মারা গেছে ১০৪ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৯৭ জনের। অর্থাৎ, এ সময়ে হাম ও এর উপসর্গে মোট মৃত্যুর বড় অংশই ঘটেছে উপসর্গজনিত জটিলতায়। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কোনো মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি; তবে হামের উপসর্গ নিয়ে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে, যেখানে মারা গেছে দুজন। এ ছাড়া সিলেট, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগে একজন করে মারা গেছে। একই সময়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৩৪২ জন। বিভাগভিত্তিক হিসাবে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৫৮৭ জন, চট্টগ্রামে ২৯২, সিলেটে ১৩৬, বরিশালে ১২৩, খুলনায় ৭৩, ময়মনসিংহে ৬৯, রাজশাহীতে ৪০ এবং রংপুরে ২২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার ৬৬৩ জনে। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৪২ জন। একই সময়ে সন্দেহভাজন হামের রোগীর মোট সংখ্যা ২ লাখ ১৪ হাজার ৫৫১ জনে পৌঁছেছে। এদের মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ২৩ হাজার ১৫৭ জনের। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে ৩৫ জন। তবে হাম ও এর উপসর্গসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিবেদনে নতুন রোগী শনাক্ত, হাসপাতালে ভর্তি এবং সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়েছে; ফলে এসব পরিসংখ্যানকে একই শ্রেণির হিসাব হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
এদিকে ডেঙ্গুর পরিস্থিতিও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহিত রোগটিতে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে, একজন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে এবং অন্যজন ময়মনসিংহে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫২ জনে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৮৫১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ২০৮৮
নতুন ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ভর্তি হয়েছে ২৩১ জন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৪৮ জন। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩৬৩ জন।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে ঢাকার বাইরে সর্বোচ্চ ২৫৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছে খুলনায়। এ ছাড়া রাজশাহীতে ২৩৩, চট্টগ্রামে ২২০, বরিশালে ১৯২, রংপুরে ৯৩, ময়মনসিংহে ৯২ এবং সিলেটে ২৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ১৪ হাজার ২৫১ জন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ১ লাখ ৭ হাজার ৮৬৫ জন।
মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ডেঙ্গুতে দুজন করে এবং মে মাসে একজনের মৃত্যু হয়। এরপর জুনে ১৩, জুলাইয়ে ৩৬, আগস্টে ৪৩ ও সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়। অক্টোবরের প্রথম ১৯ দিনেই মারা গেছে আরও ১০৩ জন। অর্থাৎ, চলতি বছরের মোট ডেঙ্গু মৃত্যুর উল্লেখযোগ্য অংশ ঘটেছে সাম্প্রতিক কয়েক মাসে, বিশেষ করে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে।
এর আগে ২০২৫ সালে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন এবং মারা গিয়েছিল ৪১৩ জন। ২০২৪ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ এবং মৃত্যুর সংখ্যা ৫৭৫। চলতি বছরের ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ইতোমধ্যে আগের দুই বছরের পূর্ণাঙ্গ বার্ষিক হিসাবকে ছাড়িয়ে গেছে। যদিও বছর শেষ হতে এখনো সময় বাকি, বর্তমান পরিসংখ্যান ডেঙ্গুর বিস্তারের ব্যাপকতা তুলে ধরছে।
একদিকে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে শিশুদের মৃত্যু, অন্যদিকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও প্রাণহানির ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা জনস্বাস্থ্যের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। দুই রোগের ক্ষেত্রে আক্রান্তের সংখ্যা, হাসপাতালে ভর্তি, সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরা এবং মৃত্যুর পরিসংখ্যান নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ, দ্রুত শনাক্তকরণ ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে হামের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং ডেঙ্গুর সম্ভাব্য লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষার ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








