লাইফস্টাইল ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৩:৫৩, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

আজ প্রাক্তনকে ক্ষমা করার দিন

আজ প্রাক্তনকে ক্ষমা করার দিন

প্রতীকী ছবি

আজ ১৭ অক্টোবর, প্রাক্তনকে ক্ষমা করার দিন বা ইন্টারন্যাশনাল ফরগিভ অ্যান এক্স ডে। পুরোনো সম্পর্কের তিক্ততা, অভিমান ও কষ্ট পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার কথা মনে করিয়ে দেয় দিনটি।

২০১৮ সাল থেকে ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দিবসটি পালনের প্রচলন শুরু হয়। প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর অনেকের মনেই জমে থাকে অভিমান, ক্ষোভ কিংবা না বলা কষ্ট। সময়ের সঙ্গে এসব অনুভূতির তীব্রতা কমে এলেও পুরোনো স্মৃতি কখনো কখনো মনে প্রভাব ফেলে। প্রাক্তনকে ক্ষমা করার দিনটি সেই অভিজ্ঞতা থেকে বেরিয়ে এসে মানসিক শান্তিকে গুরুত্ব দেওয়ার একটি উপলক্ষ।

ক্ষমা মানেই কি আবার ফিরে যাওয়া?
সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর দুজন মানুষের পথ আলাদা হয়ে যেতে পারে। কেউ হয়তো পুরোনো সম্পর্কের স্মৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে চান, আবার কেউ সেই সম্পর্কের অভিজ্ঞতা মেনে নিয়ে নতুনভাবে জীবন শুরু করেন।

প্রাক্তনকে ক্ষমা করার অর্থ এই নয় যে তার সব আচরণ মেনে নিতে হবে কিংবা আবারও সম্পর্কে ফিরতে হবে। বরং নিজের কষ্টকে স্বীকার করে ধীরে ধীরে তা থেকে বেরিয়ে আসা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দূরত্ব বজায় রাখাও ক্ষমার অংশ হতে পারে।

কাউকে ক্ষমা করা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তাই এ বিষয়ে কাউকে চাপ দেওয়া বা অপরাধবোধে ভোগানো উচিত নয়।

পুরোনো অভিমান থেকে বেরিয়ে আসা
সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর ক্ষোভ, হতাশা কিংবা অনুশোচনা অনুভব করা অস্বাভাবিক নয়। অনেক সময় মনের মধ্যে জমে থাকা কথা কাউকে বলা সম্ভব হয় না। আবার কিছু প্রশ্নের উত্তরও অজানা থেকে যায়।

এসব অনুভূতি সামলাতে নিজের আবেগকে গুরুত্ব দেওয়া, বিশ্বস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলা এবং প্রয়োজন হলে কিছুটা সময় নেওয়া সহায়ক হতে পারে। পুরোনো সম্পর্কের স্মৃতি কষ্টের কারণ হয়ে উঠলে নিজের জন্য সুস্থ সীমারেখা তৈরি করাও জরুরি।

দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও অভিমান মানসিক অস্বস্তি বাড়াতে পারে। তবে ক্ষমা করার প্রক্রিয়া সবার জন্য এক রকম নয়। কেউ দ্রুত অতীতকে মেনে নিতে পারেন, আবার কারও ক্ষেত্রে বেশি সময়ের প্রয়োজন হয়।

নিজের শান্তিকে গুরুত্ব দিন
প্রাক্তনকে ক্ষমা করার দিনটি সবার জন্য একই অর্থ বহন করে না। কেউ পুরোনো সম্পর্কের ভালো স্মৃতিগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, কেউ কষ্টের স্মৃতি পেছনে ফেলে এগিয়ে যেতে চান, আবার কেউ কোনো ধরনের যোগাযোগ ছাড়াই নিজের মতো করে নতুন জীবন শুরু করেন।

প্রাক্তনকে ক্ষমা করা মানেই তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখা নয়। একইভাবে ক্ষমা করার অর্থ সম্পর্ক পুনরায় শুরু করাও নয়। অতীতের কোনো সম্পর্ক যদি মানসিক কষ্টের কারণ হয়ে থাকে, তাহলে নিজের নিরাপত্তা ও সুস্থতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন: দই ভালো রাখতে সংরক্ষণে যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন

দিনটির মূল বার্তা হলো, অতীতের সম্পর্ক যেন বর্তমানের শান্তি ও ভবিষ্যতের সম্ভাবনাকে আটকে না রাখে। ক্ষমা করবেন কি না, যোগাযোগ রাখবেন কি না কিংবা পুরোনো স্মৃতিগুলো কীভাবে সামলাবেন সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার প্রত্যেকের নিজের।

অতীতকে মেনে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়াই হতে পারে নতুন করে জীবনকে দেখার একটি সুযোগ।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়